Friday, February 28, 2014

গুণের ভাণ্ডার মধু সম্পর্কে বিশদ বিবরণ

মধু হল এক প্রকারের মিষ্টি ও ঘন তরল পদার্থ, যা মৌমাছি ও অন্যান্য পতঙ্গ ফুলের নির্যাস হতে তৈরি করেএবং মৌচাকে সংরক্ষণ করে। এটি উচ্চ ঔষধিগুণ সম্পন্ন একটি ভেষজ তরল । মধু প্রকৃতি প্রদত্ত এক বিশুদ্ধ মিষ্টি খাদ্য, যা চিনির চাইতে অনেক গুণ মিষ্টি। অনেক আগে থেকেই মানুষ মধু ব্যবহার করে আসছে খাবারে, চিকিৎসায় ও সৌন্দর্যচর্চার। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় মধুর ব্যবহার আপনাকে অনেক শারীরিক সমস্যা থেকে মুক্তি দেবে। তাই আসুন জেনে নেই মধুর কিছু তথ্য।


তরল মধু নষ্ট হয় না, কারণ এতে চিনির উচ্চ ঘনত্বের কারণে প্লাজমোলাইসিস প্রক্রিয়ায় ব্যাকটেরিয়া মারা যায়। প্রাকৃতিক বায়ুবাহিত ইস্ট মধুতে সক্রিয় হতে পারে না, কারণ মধুতে পানির পরিমাণ খুব অল্প। প্রাকৃতিক, অপ্রক্রিয়াজাত মধুতে মাত্র ১৪% হতে ১৮% আর্দ্রর্তা থাকে। আর্দ্রর্তার মাত্রা ১৮% এর নিচে যতক্ষণ থাকে, ততক্ষণ মধুতে কোন জীবাণু বংশবৃদ্ধি করতে পারে না। তবে পাস্তুরীকৃত মধুতে তার প্রাকৃতিক ঔষধি গুণাবলী হ্রাস পায়

বাংলাদেশের সুন্দরবনের মধু স্বাদ, রং, হালকা সুগন্ধ এবং ঔষধিগুণাবলীর জন্য প্রসিদ্ধ। সুন্দরবনের বেশীরভাগ মধু কেওড়া গাছের ফুল থেকে উৎপন্ন। সুন্দরবনের মাওয়ালী সম্প্রদায়ের লোকেরা মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করে এবং তা বিক্রয় করে জীবন নির্বাহ করে। প্রাচীন কাল থেকে গ্রিস ও মিশরে ক্ষত সারাইয়ে মধু ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ২০০৭-এ সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক পরীক্ষায় দেখা গেছে অধিকাংশ ক্ষত ও জখমের উপশমে মধু ডাক্তারী ড্রেসিং-এর চেয়েও বেশী কার্যকর। অগ্নিদগ্ধ ত্বকের জন্যও মধু খুব উপকারী। প্রাচীন গ্রিসের খেলোয়াড়েরা মধু খেযে মাঠে নামতো ,কারণ মধুতে রয়েছে উচ্চমাত্রার ফ্রুক্টোজ ও গ্লুকোজ যা যকৃতে গ্রাইকোজেনের রিজার্ভ গড়ে তোলে। ফলে শরীরে স্ফূর্তি পাওয়া যায়।

মধু কি?
মধু হচ্ছে একটি তরল আঠালো মিষ্টি জাতীয় পদার্থ, যা মৌমাছিরা ফুল থেকে নেকটার বা পুষ্পরস হিসেবে সংগ্রহ করে মৌচাকে জমা রাখে। পরবর্তীতে জমাকৃত পুষ্পরস প্রাকৃতিক নিয়মেই মৌমাছি বিশেষ প্রক্রিয়ায় পূর্ণাঙ্গ মধুতে রূপান্তর এবং কোষবদ্ধ অবস্থায় মৌচাকে সংরক্ষণ করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং খাদ্য ও কৃষি সংস্থার মতে মধু হচ্ছে এমন একটি অগাজানোশীল মিষ্টি জাতীয় পদার্থ যা মৌমাছিরা ফুলের নেকটার অথবা জীবন্ত গাছপালার নির্গত রস থেকে সংগ্রহ করে মধুতে রূপান্তর করে এবং সুনির্দিষ্ট কিছু উপাদান যোগ করে মৌচাকে সংরক্ষণ করে।

মধুর ভৌত বৈশিষ্ট্যঃ
বাংলাদেশের জাতীয় মধু বোর্ডের সংজ্ঞা অনুযায়ী “মধু হল একটি বিশুদ্ধ পদার্থ যাতে পানি বা অন্য কোন মিষ্টকারক পদার্থ মিশ্রিত করা হয় নাই।”মধু চিনিরচাইতে অনেক গুণ মিষ্টি। তরল মধু নষ্ট হয় না, কারণ এতে চিনির উচ্চ ঘনত্বের কারণে প্লাজমোলাইসিস প্রক্রিয়ায় ব্যাকটেরিয়া মারা যায়। প্রাকৃতিক বায়ুবাহিত ইস্ট মধুতে সক্রিয় হতে পারে না, কারণ মধুতে পানির পরিমাণ খুব অল্প। প্রাকৃতিক, অপ্রক্রিয়াজাত মধুতে মাত্র ১৪% হতে ১৮% আর্দ্রর্তা থাকে। আর্দ্রর্তার মাত্রা ১৮% এর নিচে যতক্ষণ থাকে, ততক্ষণ মধুতে কোন জীবাণু বংশবৃদ্ধি করতে পারে না। পাস্তুরাইয্‌ড মধুতে মধুর প্রাকৃতিক ঔষধি গুণাবলী হ্রাস পায়।

যত ধরনের মধুঃ
বিভিন্ন ফুল থেকে মধু হয় যেমন-
সরিষা ফুল, লিচু, সুন্দর বন, কালজিরা থেকে আহরিত মধু। এ ছাড়া রয়েছে ধুনিয়া ফুল, গুজি তিল ও তৃষি থেকেও উৎপাদিত হয় মধু।প্রায় সব গুলুর গুনাগুন একই।

সবচেয়ে সেরা মধুঃ
নিউজিল্যাণ্ডের মানুকা হানি বাজারে প্রাপ্য সকল মধুর চেযে বেশী চেযে ঔষধিগুণ সম্পন্ন গণ্য করা হয়। মানুকা নামীয় একপ্রকার ঝোপ জাতীয় উদ্ভিদের ফুল থেকে উৎপন্ন মধু “মানুকা হানি” নামে পরিচিত।

মধুতে যা বিদ্যমানঃ
মধুতে প্রায় ৪৫টি খাদ্য উপাদান থাকে। ফুলের পরাগের মধুতে থাকে ২৫-৩৭ শতাংশ গ্লুকোজ। ৩৪-৪৩ শতাংশ ফ্রুক্টোজ, ০.৫-৩.০ শতাংশ সুক্রোজ এবং ৫-১২ শতাংশ মন্টোজ। আরো থাকে ২২ শতাংশ অ্যামাইনো এসিড, ২৮ শতাংশ খনিজ লবণ এবং ১১ ভাগ এনকাইম। এতে চর্বি ও প্রোটিন নেই। ১০০ গ্রাম মধুতে থাকে ২৮৮ ক্যালরি। এখানে বলা প্রয়োজন, চিনি ও মধুর মূল গঠনে বড় কোনো পার্থক্য নেই। দুটোই গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজের সমন্বয়। চিনিতে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ একত্রিত হয়ে সুক্রোজ অণু গঠন করে, যে কারণে চিনি দানাদার। মধুতে এই ফ্রুক্টোজ ভাসমান অবস্থায় থাকে। চিনি ও মধুতে মিষ্টি স্বাদের কারণ এই ফ্রুক্টোজ, তবে এর তেমন পুষ্টিগুণ নেই। পুষ্টির বেশিরভাগ থাকে গ্লুকোজে। মধুতে ফ্রুক্টোজের পরিমাণ চিনির চেয়ে বেশি (৫৫ ভাগ) তাই মধু চিনির তুলনায় তিনগুণ বেশি মিষ্টি। মধুর অতিরিক্ত ফ্রুক্টোজ সাধারণ চিনির চেয়েও দ্রুত রক্তের সুগারকে বাড়িয়ে দিতে পারে। এমনকি স্থূলতা, হৃদরোগ, কিডনি সমস্যাসহ নানা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। মাত্রাতিরিক্ত ফ্রুক্টোজের উপস্থিতি শরীর থেকে অন্যান্য খনিজ শোষণ করে নিতে পারে। মনে রাখা প্রয়োজন, মধু নিজেই একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ খাদ্য, চিনির বিকল্প হিসেবে একে ব্যবহার করার কোনো যুক্তি নেই। প্রতি খাদ্যের মতোই মধুও পরিমিত সেবন করা প্রয়োজন। মধু পুষ্টিগুণে অনন্য ও নানা রোগের ওষুধ হিসেবে কাজ করে, কিন্তু মধু ব্যবসায়ীদের কথায় ভুলে একে সব রোগের মহৌষধ ও যে কোনো খাদ্যে ব্যবহারের উপযোগী মনে করার কারণ নেই।

খাটি মধুর বৈশিষ্ট্যঃ
খাটি মধুতে কখনো কটু গন্ধ থাকে না।
মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক কোনো বিষাক্ত উপাদান প্রাকৃতিক গাছে থাকলেও তার প্রভাব মধুতে থাকে না।
মধু সংরক্ষণে কোনো পৃজারভেটিভ ব্যবহৃত হয় না। কারণ মধু নিজেই পৃজারভেটিভ গুণাগুণ সম্পন্ন পুষ্টিতে ভরপুর খাদ্য।
মধু উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাত, নিষ্কাশন, সংরক্ষণ ও বোতলজাতকরণের সময় অন্য কোনো পদার্থের সংমিশ্রণ প্রয়োজন হয় না।
খাটি মধু পানির গ্লাসে ড্রপ আকারে ছাড়লে তা সরাসরি ড্রপ অবস্থায়ই গ্লাসের নিচে চলে যায়।

খাটি মধুতে যে মান থাকা আবশ্যকঃ
পানি শতকরা ২১ ভাগের বেশি নয়।
সুক্রোজ শতকরা ৫ ভাগের বেশি নয়।
অ্যাশ শতকরা ১ ভাগের বেশি নয়।
রিডিউসিং সুগার শতকরা ৬৫ ভাগের কম নয়।

খাঁটি মধু চেনার কিছু উপায়ঃ
বর্তমানে আমরা বাজার থেকে যে মধু কিনে আনি তা যে কতটুকু খাঁটি তা বলা মুশকিল । মধুর মধ্যে সাধারণত ভেজাল হিসেবে পানি, চিনি ও আরও অনেক কিছু মেশানো হয় । চলুন আমরা জেনে খাঁটি মধু চেনার কিছু উপায়,

ফ্রিজিং পরীক্ষাঃ মধুকে ফ্র্রিজের মধ্যে রেখে দিন । খাঁটি মধু জমবে না । ভেজাল মধু পুরাপুরি না জমলেও জমাট তলানী পড়বে।
পিঁপড়া পরীক্ষাঃ এক টুকরা কাগজের মধ্যে কয়েক ফোঁটা মধু নিন । তারপর যেখানে পিঁপড়া আছে সেখানে রেখে দিন । পিঁপড়া যদি মধুর ধারে কাছে না ঘেসে তবে তা খাঁটি মধু । আর পিঁপড়া যদি তা পছন্দ করে তবে মধুতে ভেজাল আছে।
চক্ষু পরীক্ষাঃ খুব অল্প পরিমাণ মধু চোখের ভেতরে দিন । যদি মধু খাঁটি হয় তবে প্রথমে চোখ জ্বালাপোড়া করবে ও চোখ থেকে পানি বের হবে এবং খানিক পরে চোখে ঠান্ডা অনুভূতি হবে । (এই পরীক্ষায় অনুৎসাহিত করছি)
দ্রাব্যতা পরীক্ষাঃ এক গ্লাস পানি নিয়ে এর মধ্যে এক টেবিল চামচ পরিমাণ মধু নিন । খুব ধীরে ধীরে গ্লাসটি শেক করুন । যদি মধু পানিতে পুরাপুরি দ্রবীভূত হয়ে যায় তবে তা ভেজাল মধু । আর মধু যদি পানিতে ছোট ছোট পিন্ডের আকারে থাকে তবে তা খাঁটি মধু ।
মেথিলেটেড স্পিরিট পরীক্ষাঃ সমান অনুপাতে মধু এবং মেথিলেটেড স্পিরিট মিশ্রিত করে নাড়াতে থাকুন। খাঁটি মধু দ্রবীভুত না হয়ে তলনীতে জমা হবে । আর ভেজাল মধু দ্রবীভূত হয়ে মেথিলেটেড স্পিরিটকে মিল্কি করবে ।
শিখা পরীক্ষাঃ একটি কটন উয়িক নিয়ে উহার এক প্রান্তকে মধুর মধ্যে ডুবিয়ে নেই । তারপর উঠিয়ে হালকা শেক করে নিই । একটি মোমবাতি জ্বালিয়ে বা লাইটার জ্বলিয়ে তা আগুনের শিখায় ধরি । যদি তা জ্বলতে থাকে তবে মধু খাঁটি আর যদি না জ্বলে তবে মধুতে পানি মেশানো আছে । যদি মধুতে অল্প পরিমাণ পানি মেশানো থাকে তবে কটন উয়িক জ্বলতে থাকবে কিন্তু ক্র্যাকলিং সাউন্ড শোনা যাবে ।
শোষণ পরীক্ষাঃ কয়েক ফোঁটা মধু একটি ব্লটিং পেপারে নিন ও পর্যবেক্ষণ করুন । খাঁটি মধু ব্লটিং পেপার কর্তৃক শোষিত হবে না । ভেজাল মধু ব্লটিং পেপারকে আর্দ্র করবে ।
কলংক পরীক্ষাঃ একটুকরা সাদা কাপড়ের উপর সামান্য পরিমাণ মধু নিন এবং এবং কিছুক্ষন পর কাপড়টি ধৌত করুন । ধোয়ার পর কাপড়টিতে যদি কোন দাগ থাকে তবে মধুতে ভেজাল আছে । আর যদি কোন দাগ না থাকে তবে মধু খাঁটি ।
হানি কম্ব পরীক্ষাঃ একটি কাঁচের বা সাদা রংয়ের বোলের মধ্যখানে দেড় থেকে দুই চা চামচ (প্লস্টিকের তৈরি) মধু নেই । তারপর বোলের চারদিক দিয়ে ধীরে ধীরে ঠান্ডা পানি ঢালতে থাকি । যখন পানি মধুকে ঢেকে ফেলবে তখন পানি ঢালা বন্ধ করি । তারপর বোলটিকে তুলে ধরে ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে দুই মিনিট ধরে ঘুরাতে থাকি । খাঁটি মধু এই মুভমেন্টের পরেও পানিতে দ্রবীভূত হবে না এবং হেক্সাগোনাল আকৃতি ধারণ করবে যা দেখতে প্রায় হানি কম্ব এর মত।নিচে হানি কম্ব এর একটি চিত্র দেওয়া হল।
স্বচক্ষে দেখা পদ্ধতিঃ এই পরীক্ষগুলো না করেও খাঁটি মধু সম্পর্কে নিশ্চত হতে পারবেন যদি আপনি নিজে উপস্থিত থেকে মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করে আনতে পারেন ।

উপকারিতাঃ-
মধুর উপকারিতার কথা লিখে শেষ করা যাবে না!আমি এখানে প্রধান কয়েকটি উপকারিতার কথা লিকছি।

-নিয়মিত মধু পানে রোগ-বালাই হ্রাস পায় কেননা মধু মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। গ্রিক অ্যাথলেটরা অলিম্পিকে অংশগ্রহণের আগে প্রচুর পরিমাণ মধু সেবন করত শক্তি বাড়ানোর জন্য। তাদের ধারণা ছিল, মধু খেলে তাদের পারফরমেন্সের উন্নতি হবে।কারণ মধুতে রয়েছে উচ্চমাত্রার ফ্রুক্টোজ ও গ্লুকোজ যা যকৃতে গ্রাইকোজেনের রিজার্ভ গড়ে তোলে।

রোগ প্রতিরোধশক্তি বাড়ায়ঃ-
মধু শরীরের রোগ প্রতিরোধশক্তি বাড়ায় এবং শরীরের ভেতরে এবং বাইরে যে কোনো ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ প্রতিহত করার ক্ষমতাও যোগান দেয়।মধুতে আছে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধকারী উপাদান, যা অনাকাঙ্ক্ষিত সংক্রমণ থেকে দেহকে রক্ষা করে।

২০০৭ সালে সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় দেখা যায়, সুপারবাগ ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ প্রতিরোধে মধু অত্যন্ত কার্যকর।বিভিন্ন ভাইরাসের আক্রমণে বিভিন্ন রোগ প্রায়ই দেহকে দুর্বল করে দেয়। এসব ভাইরাস প্রতিরোধে মধু খুবই কার্যকর।

-গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছেযে মধুতে রয়েছে উচ্চশক্তিসম্পন্ন অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল এজেন্ট। এই এজেন্ট শরীরের ক্ষতিকর রোগ জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করে।

-আপনার শরীরের জয়েন্টে জয়েন্টে ব্যথা? প্রচুর বাতের ওষুধ খেয়েও কোনো ফল পাননি? মধু খান। যে অবাঞ্ছিত রসের কারণে শরীরে বাতব্যামোর জন্ম, সে রস অপসারিত করবে মধু। আপনার বাত সেরে যাবে।

-রাতে ঘুমানোর আগে মধু খেলে মস্তিষ্কের ক্রিয়াক্ষমতা ভালো থাকে। মধু এবং দুধ এক কাপ গরম দুধের সাথে এক চা চামচ মধু মিশাতে হবে এবং রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে এটি সেবন করতে হবে। এটা শুধুমাত্র স্বাস্থ্যপোযোগীই নয় বরং এর দ্বারা রাতে ভাল ঘুমও হবে। মধু যে শুধু কায়িক শক্তি বাড়ায়, তা নয়। আপনি প্রতিদিন রাতে শোয়ার আগে এক চামচ মধু খাবেন, ঘুমানোর আগে এক চামচ মধু মস্তিষ্কের কাজ সঠিকভাবে চালাতে সাহায্য করে ফলে আপনার মস্তিষ্কের শক্তি তথা বুদ্ধির জোর বেড়ে যাবে। যে কোনো কাজেকর্মে আপনার মগজ আগের চেয়ে বেশি খেলবে। যাদের মাথা খাটিয়ে কাজ করতে হয়, তাদের জন্য মধু এনে দেবে নতুন উদ্যম ও সৃষ্টিশীলতা। মনে রাখবেন, আপনি ঘুমিয়ে পড়লেও আপনার মস্তিষ্ক কিন্তু জেগে থাকে। সুতরাং তখনও তার শক্তি দরকার। আর এ শক্তির ভালোই যোগান দেয় মৌমাছির চাক ভেঙে পাওয়া এই প্রাকৃতিক মধু। আপনার লিভারে মধু থেকে পাওয়া ফলজ শর্করা বা ফ্রুকটোজ নামের পদার্থটিই মস্তিষ্কের জ্বালানি হিসেবেই কাজ করে থাকে।মানুষের লিভারে শক্তি সংরক্ষণ করে এবং রাতব্যাপি মস্তিষ্কে শক্তি সরবরাহ করে থাকে।

-ঠাণ্ডায় বা সর্দি কাশিতে মধু ভালো কাজ করে ,পেনসিলভেনিয়া স্টেট কলেজের পরীক্ষায় দেখা গেছে বাজারে যত ঔষধ পাওয়া যায় তার চেয়ে অনেক বেশী কার্যকর এক চামচ মধু। মধুর ভাইরাস প্রতিরোধী ক্ষমতা উচ্চ। পরিমাণ মত আদারস এবং মধু মিশিয়ে খেলে কাশির সমস্যা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। ঠাণ্ডা, কাশি, কণ্ঠনালির ক্ষত, নাক দিয়ে পানি পড়া ইত্যাদি থেকে দ্রুত পরিত্রাণ দেয় এই মিশ্রণটি।

-ফুসফুসের যাবতীয় রোগ ও শ্বাসকষ্ট নিরাময়েঃ
বলা হয়, ফুসফুসের যাবতীয় রোগে মধু উপকারী। যদি একজন অ্যাজমা (শ্বাসকষ্ট) রোগীর নাকের কাছে ধরে শ্বাস টেনে নেয়া হয় তাহলে সে স্বাভাবিক এবং গভীরভাবে শ্বাস টেনে নিতে পারবেন। কেউ কেউ মনে করেন, এক বছরের পুরনো মধু শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য বেশ ভালো।

-মধু হজমে সাহায্য করে। পেটরোগা মানুষদের জন্য মধু বিশেষ উপকারী। ১ চা চামচ খাঁটি মধু ভোরবেলা পান করলে কোষ্ঠবদ্ধতা এবং অম্লত্ব দূর হয়। পুরনো আমাশয় এবং পেটের পীড়া নিরাময়সহ নানাবিধ জটিল রোগের উপকার করে থাকে। কারণ এতে থাকে খুব বেশি পরিমাণে কপার, লৌহ ও ম্যাঙ্গানিজ। মধু পাকস্থলীর কাজকে জোরালো করে এবং হজমের গোলমাল দূর করে। এর ব্যবহার হাইড্রোক্রলিক এসিড ক্ষরণ কমিয়ে দেয় বলে অরুচি, বমিভাব, বুক জ্বালা এগুলো দূর করা সম্ভব হয়। গ্যাস্ট্রিক-আলসার থেকে মুক্তি পেতে একজন ব্যক্তি দিনে তিনবেলা দুই চামচ করে মধু খেতে পারে। ডায়রিয়া হলে এক লিটার পানিতে ৫০ মিলিলিটার মধু মিশিয়ে খেলে দেহে পানিশূন্যতা রোধ করা যায়। মধু সব রোগের মহৌষধ হলেও একটি কথা থেকেই যায়, সেটি হলো ডায়াবেটিস রোগের ক্ষেত্রে মধু খুবই বিপজ্জনক। কারণ এটি রক্তে সরাসরি শোষিত হয় বলে সহজেই দেহের রক্ত শর্করাকে উচ্চস্তরে নিয়ে আসবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। সুতরাং ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য মধু গ্রহণ নিষেধ।

-রক্ত পরিষ্কারক- এক গ্লাস গরম পানির সাথে এক বা দুই চামচ মধু ও এক চামচ লেবুর রস মেশান। পেট খালি করার আগে প্রতিদিন এই মিশ্রন খান। এটা রক্ত পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। তাছাড়া রক্তনালীগুলোও পরিষ্কার করে। রক্ত উৎপাদনকারী উপকরণ আয়রন রয়েছে মধুতে। আয়রন রক্তের উপাদানকে (আরবিসি, ডব্লিউবিসি, প্লাটিলেট) অধিক কার্যকর ও শক্তিশালী করে। রক্তের হিমোগ্লোবিন গঠনে সহায়তা করে বলে এটি রক্তশূন্যতায় বেশ ফলদায়ক।

-ত্বকের চর্চাতে মধুর ব্যবহার ব্যাপক। যে কোনও ধরনের ত্বকে মধু ব্যবহার করা যায়। এতে করে ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়, ত্বক হয়ে উঠে নরম, কোমল ও স্নিগ্ধ। মধু দুধের সাথে মিশিয়ে বা ফেস প্যাকে মিশিয়ে ব্যবহার করলেই চলে। *দেহের ক্ষত এবং ফোঁড়ার ওপর মধু এবং চিনি চমৎকার কাজ করে থাকে। এটি যে কোনো ব্যথাকে প্রশমিত করে এবং জীবাণুনাশকের কাজ করে।

-মধুতে চিনির তুলনায় ক্যালোরি অনেক কম বিধায় ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। চিনির ক্ষতিকর দিকগুলো থেকে সহজে রক্ষা পেতে চিনির বিকল্প হিসেবে মধুর সিরাপ ব্যাবহার করা যেতে পারে। এতে করে এক দিকে যেমন মিষ্টি স্বাদ পাওয়া যাবে অন্যদিকে স্বাস্থ্যের জন্যও হবে ইতিবাচক।

-মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য রক্ষায় মধু ব্যবহৃত হয়। এটা দাঁতের ওপর ব্যবহার করলে দাঁতের ক্ষয়রোধ করে। দাঁতে পাথর জমাট বাঁধা রোধ করে এবং দাঁত পড়ে যাওয়াকে বিলম্বিত করে। মধু রক্তনালিকে সম্প্রসারিত করে দাঁতের মাড়ির স্বাস্থ্য রক্ষা করে। যদি মুখের ঘায়ের জন্য গর্ত হয়। এটি সেই গর্ত ভরাট করতে সাহায্য করে এবং সেখানে পুঁজ জমতে দেয় না। মধু মিশ্রিত পানি দিয়ে গড়গড়া করলে মাড়ির প্রদাহ দূর হয়।

-শিশুদের ছয় মাস বয়সের পর থেকে অল্প করে (তিন-চার ফোঁটা) মধু নিয়মিত খাওয়ানো উচিত। এতে তাদের পুরো দেহের বৃদ্ধি, মানসিক বিকাশ ভালো হবে। তবে শিশুকে মধু নিয়মিত খাওয়াতে হবে ঠান্ডা ঋতুতে, গরমের সময় নয়।শিশুদের দুর্বলতা দূর করার জন্যমধুতে রয়েছে জিংক ও ফসফরাস।বড়দের তুলনায় বাড়ন্ত শিশুদের (বিশেষ করে যারা স্কুলে যায়) জন্য পরিমাণে মধু বেশি প্রয়োজন।

-দৃষ্টিশক্তির বাড়াতে গাজরের রস মধুর মিশিয়ে খান। এই মিশ্রণটি প্রতিদিন সকালে নাস্তার এক ঘণ্টা খেতে হবে।

-মেয়েদের রূপচর্চার ক্ষেত্রে মাস্ক হিসেবে মধুর ব্যবহার বেশ জনপ্রিয়। মুখের ত্বকের মসৃণতা বৃদ্ধির জন্যও মধু ব্যবহূত হয়।

-মধুর গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ ক্যালসিয়াম। ক্যালসিয়াম দাঁত, হাড়, চুলের গোড়া শক্ত রাখে, নখের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি করে, ভঙ্গুরতা রোধ করে।

-প্রতিদিন দু চামচ মধুর সাথে এক চামচ রসুনের রস মিশিয়ে সকাল-সন্ধ্যা দুবার খান। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

-আধা গ্রাম গোলমরিচের গুঁড়োর সাথে সমপরিমাণ মধু এবং আদা মেশান। দিনে অন্তত তিন বার এই মিশ্রণ খেলে হাঁপানির সমস্যা দূর হবে।

-এক চামচ মৌরি গুঁড়োর সাথে এক বা দুই চামচ মধুর মিশ্রণ হৃদরোগে কাজ করবে টনিকের মতো। এটা হৃদপেশিকে সবল করে এবং হার্টের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

-এক গ্লাস গরম পানির সাথে এক বা দুই চামচ মধু ও এক চামচ লেবুর রস মিশিয়ে প্রতিদিন খান। এটি পেট পরিষ্কার করে ও মেদ কমায়। এছাড়াও রক্ত পরিষ্কার করতেও সাহায্য করে।

-মধু তাপ ও শক্তির ভালো উৎস। এতে যে শর্করা থাকে তা সহজেই হজম হয়। কারণ এতে যে ডেক্সট্রিন থাকে তা সরাসরি রক্তে প্রবেশ করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে ক্রিয়া করে। বৃদ্ধ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে মধু দেহে তাপ ও শক্তি জুগিয়ে শরীরকে সুস্থ রাখে। শীতের ঠান্ডায় এটি দেহকে গরম রাখে। এক অথবা দুই চা চামচ মধু এক কাপ ফুটানো পানির সঙ্গে খেলে শরীর ঝরঝরে ও তাজা থাকে।

বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে মধু এবং দারুচিনির গুড়া:
--------------------------------------------
মধু এবং দারুচিনি এর মধ্যে রয়েছে অসাধারন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যা আদি কাল থেকে মানুষ রোগ নিরাময়ের জন্য ব্যাবহার কারে আসতেছে। পবিএ কোরানে আল্লাহ পাক মধুর কথা উল্লেক করেছেন। সম্প্রতিক বিজ্ঞানীরা স্বীকার কারেছেন যে মধু হচ্ছে প্রা্য় সব ধরনের রোগের মহা ঔষুধ যা সব ধরনের রোগের জন্য ব্যাবহার করা যা্য় এবং এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই বল্লে চলে। এমন কি মধু মিষ্টি হলেও ডাইবেটেস রোগীরা নির্দিষ্ট পরিমান ঔষুধ হিসাবে খেতে পারে।

ঠান্ডা সমাস্যা : সাধারণ অথবা গুরুতর ঠান্ডায় যারা ভুগতেছেন তাঁরা প্রতিদিন ১/৪ চা চামচ দারুচিনি গুঁড়া সাথে সামান্য গারম করে এক চা চামচ মধু খান।তিন দিন ধরে এই পক্রিয়ায় খেলে দীর্ঘস্থায়ী কাশি, ঠান্ডা, এবং সাইনাসের সমস্যা দুর হয়ে যাবে।

হৃদরোগে: মধু ও দারুচিনি গুঁড়ার একটি পেস্ট করুন। জ্যাম এবং জেলির পরিবর্তে এই পেস্ট পাউরুটি দিয়ে প্রতিদিন সকালের নাস্তায় খান। এটা ধমনীতে কলেস্টেরল কমায় এবং হার্ট অ্যাটাক থেকে রাক্ষা করে। উপরন্তু, যারা ইতিমধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত তারা প্রতিদিন এই প্রক্রিয়া প্রতিদিন মধু ও দারুচিনি গুঁড়ার পেস্ট খেলে হার্ট অ্যাটাক থেকে রাক্ষা পাবেন। তাছাড়া যাদের শ্বস কষ্ট আছে তাদের শ্বাস কষ্ট দুর হবে এবং হার্ট শক্তিশালী হবে। আমেরিকা এবং কানাডার বিভিন্ন নার্সিং হোম রোগীদের উপর এই চিকিত্সা করে সফলতা পাওয়া গেছে।

বাত: বাত রোগীদের প্রতিদিন সকালে এবং রাতে দুই চা চামচ মধু এবং এক চা চামচ দারুচিনি গুঁড়া এক কাপ গরাম পানিতে মিশিয়ে খাবান। নিয়িমিত দুই বেলা এভাবে খেলে এমনকি দীর্ঘস্থায়ী বাত থেকে নিরাময় লাভ করা যায়। সাম্প্রতিক কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয় এক গবেষণা পরিচালনা করেন। এতে রগীদের প্রতিদিন সকালে এক চা চামচ মধু এবং আধা চা চামচ দারুচিনি গুঁড়া মিশিয়ে সকালের নাস্তার সময় খেতে দিতেন। ফলাফল, এক সপ্তাহ পর ২০০ জনের মধ্যে ৭৩ জন রোগীর ব্যাথা উপশম হয় এবং এক মাস পর যে সকাল রুগী ব্যাথার জন্য হাঁটতে পারত না তারা ব্যাথা ছাড়া হাঁটতে পারেন।

মূত্রাশয় সংক্রমণ: এক গ্লাস আল্প গরাম পানিতে দুই চা চামচ দারুচিনি গুঁড়া এবং এক চা চামচ মধু মিশিয়ে পান করুন। এটা মূত্রাশয়ে জীবাণু ধ্বংস করে।

কলেস্টেরল: দুই চা চামচ মধু এবং তিন চা চামচ দারুচিনি পাউডার এক কাপ পানিতে মিশিয়ে পান করুন। এতে দুই ঘন্টার মধ্যে রক্ত কলেস্টেরলের মাত্রা ১০% হ্রাস পাবে। তাছাড়া প্রতিদিন তিনবার কারে খেলে দীর্ঘস্থায়ী কলেস্টেরল নিরাময় হয় ।

পেটের সমস্যা: মধু দারুচিনি গুঁড়া পেটব্যথা, বধ হজম দূর কারতে যাদুকরী ফল দেয়।

গ্যাস: ভারত এবং জাপানে সম্পন্ন গবেষণা মতে,যখন দারুচিনি গুঁড়া সঙ্গে মধু খাওয়া তা পেটে গ্যাস উপশম করতে সহায়তা করে।

হজমে সমস্যা: এক চামচ দারুচিনির সাথে দুই চামচ মাধু মিশিয়ে খাওয়ার আগে খেয়ে নিন। হজমের সামস্য দূর হয়ে যাবে।

চিরতরুণ: চিরতরুণ থাকতে চান। এক চা চামচ মধু আর ১/৪ চা চামচ দারুচিনি পাউডার গরাম পানিতে মিশিয়ে চা বানিয়ে দিনে তিন-চার বার পান করুন। এটা ত্বকের পরিস্কার রাখে এবং ত্বকের উজ্জল্যতা ধরে রাখে।

ওজন কমেনো: ওজন কামানোর জন্য সকালের নাস্তার আধ ঘন্টা আগে খালি পেটে এবং এ রাতে ঘুমোবার আগে, মধু এবং দারুচিনি গুঁড়া এক কাপ ফুটান্ত পানির সাথে মিশিয়ে পান করুন। এটা আপনার শরীরের অতিরিক্ত মেদ কমাবে।

ক্যান্সার: জাপান ও অস্ট্রেলিয়া সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে রুগী পেট এবং হাড়ের ক্যান্সারে ভুগতেছে তারা প্রতিদিন তিন বার করে এক চা চামচ দারুচিনি গুঁড়ার সাথে এক চা চামচ মধু মিশিয়ে তিন মাস খেলে ভাল ফালাফল আসা করতে পারে।

চুল পরা: চুল হারানো রোধ করতে এক চা চামচ মধুর সাথে এক চা চামচ দারুচিনির গুড়া মিশিয়ে প্রতিদিন সাকাল এবং বিকালে খান।

লেখাটি আনেক গুলো গবেষোনার ফালাফলের উপর ভিত্তি করে লেখা। আপনি বাজার থেকে আল্প খরচে মধু এবং দারুচিনির গুড়া কিনে এর সত্যতা যাচাই করতে পারেন। ফলাফলের জন্য নিয়মিত খাওয়া জরুরী।

সকালে মাত্র এক চামচ মধুর ৬ টি স্বাস্থ্য উপকারিতাঃ
================================
প্রাচীন কাল থেকেই ঔষধ হিসেবে মধু ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশেষ করে চাইনিজরা প্রতিদিন দুধ ও মধু মিশিয়ে সেটা রুটি দিয়ে খেতো। এটা তাদের একটি অভ্যাসে পরিণত হয়েছিলো। আবার কেউ কেউ হালকা গরম পানিতে মধু দিয়ে অথবা চায়ের সাথে মধু দিয়ে খেতো। এখনও এই অভ্যাস অনেক চাইনিজদের মধ্যেই দেখা যায়।
বিশ্বের প্রায় বেশিরভাগ দেশেই, বিশেষ করে এশিয়ান দেশ গুলোতে মধু খাওয়ার প্রচলণ বেশি। সকাল বেলা এক চামচ মধু আপনার দিনের শুরুটাকে মধুর মত মিষ্টি করে দিবে। শুধু তাই নয়, মধুর আছে অবিশ্বাস্য স্বাস্থ্য উপকারিতা। হাজারো গুণে ভরা এই মধুতে গুকোজ ও ফ্রুকটোজ আছে যা শরীরে শক্তি যোগায়। এর অন্যান্য উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। আসুন দেখে নেয়া যাক প্রতিদিন সকালে এক চামচ মধু খাওয়ার ৬টি উপকারিতা।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
মধুতে আছে প্রচুর পরিমাণে মিনারেল, ভিটামিন ও এনজাইম যা শরীরকে বিভিন্ন অসুখ বিসুখ থেকে রক্ষা করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এছাড়াও প্রতিদিন সকালে এক চামচ মধু খেলে ঠান্ডা লাগা, কফ, কাশি ইত্যাদি সমস্যা কমে যায়।
শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হলে প্রতিদিন হালকা গরম পানির সাথে মধু ও লেবুর রস মিশিয়ে খান। সঙ্গে একটু দারচিনির গুঁড়াও ছিটিয়ে নিতে পারেন। এতে মন ভালো হবে।
ওজন কমায়
প্রতিদিন সকালে মধু খেলে ওজন কমে। বিশেষ করে সকালে খালি পেটে হালকা গরম পানিতে লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে খেলে বেশ খানিকটা ওজন কমে যায় কিছুদিনের মধ্যেই। এছাড়াও এভাবে প্রতিদিন খেলে লিভার পরিষ্কার থাকে, শরীরের বিষাক্ত উপাদান গুলো বের হয়ে যায় এবং শরীরের মেদ গলে বের হয়ে যায়।
হৃৎপিণ্ডের সমস্যার ঝুঁকি হ্রাস
মধুর সাথে দারচিনির গুঁড়ো মিশিয়ে খেলে তা রক্তনালীর সমস্যা দূর করে এবং রক্তের খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ ১০% পর্যন্ত কমিয়ে দেয়। মধু ও দারচিনির এই মিশ্রণ নিয়মিত খেলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুকি কমে এবং যারা ইতিমধ্যেই একবার হার্ট অ্যাটাক করেছেন তাদের দ্বিতীয়বার অ্যাটাকের ঝুকি কমে যায়।
বেশি উপকার পেতে সকালের নাস্তার আগে এক গ্লাস হালকা গরম পানির সাথে এক চামচ মধু ও অল্প দারচিনির গুঁড়ো মিশিয়ে নিয়মিত খান।
হজমে সাহায্য করে
যাদের নিয়মিত হজমের সমস্যা হয় তারা প্রতিদিন সকালে মধু খাওয়ার অভ্যাস করুন। মধু পেটের অম্লীয়ভাব কমিয়ে হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। হজমের সমস্যা দূর করার জন্য মধু খেতে চাইলে প্রতিবার ভারী খাবারের আগে এক চামচ মধু খেয়ে নিন। বিশেষ করে সকালে খালি পেটে এক চামচ মধু খান।
শক্তি বাড়ায়
মধুতে আছে প্রাকৃতিক চিনি। এই প্রাকৃতিক চিনি শরীরে শক্তি যোগায় এবং শরীরকে কর্মক্ষম রাখে। বিশেষ করে যাদের মিষ্টি খাবারের নেশা আছে তারা অন্য মিষ্টি খাবারের বদলে মধু খেয়ে নিন। কিছু মানুষ আছে যারা সারাক্ষন দূর্বলতায় ভোগেন এবং এই সমস্যা দূর করার জন্য কিছুক্ষন পর পর চা কফি খায়। এই সমস্যায় যারা ভুগছেন তারা প্রতিদিন সকালে এক চামচ মধু খেয়ে নিন এবং সারা দিন সবল থাকুন।
ত্বক ভালো করে
মধুতে আছে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি ফাঙ্গাস উপাদান। ত্বকের যত্নে মধুর জুড়ি নেই। সকালে ত্বকে মধু লাগিয়ে ৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। এতে মধুর বেশ কিছু উপাদান ত্বক শুষে নেয়। ফলে ত্বক মসৃণ ও সুন্দর হয়। এভাবে নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বকের দাগও চলে যায়।

**এছাড়া ও মধু-
—মধু ফ্যাট কমায়, ফলে ওজন কমে।
—মধু প্রাকৃতিকভাবেই মিষ্টি। তাই মধু সহজে হজম হয়।
—চোখের জন্য ভালো।
—গলার স্বর সুন্দর করে।
—শরীরের ক্ষত দ্রুত সারায়।
—আলসার সারাতে সাহায্য করে।
—নালীগুলো পরিষ্কার করে।
—ঠাণ্ডা লাগলে জ্বর, গলাব্যথায় ভালো ওষুধ হিসেবে কাজ করে।
—মধু এন্টি অক্সিডেন্ট, যা ত্বকের রং ও ত্বক সুন্দর করে। ত্বকের ভাঁজ পড়া ও বুড়িয়ে যাওয়া রোধ করে।
—বুদ্ধিবৃত্তি বাড়ায়।
—শরীরের সামগ্রিক শক্তি বাড়ায় ও তারুণ্য বাড়ায়।
--ঠান্ডায় মধু নিয়মিত খেলে অতিরিক্ত ঠান্ডা লাগার প্রবণতা দূর হবে।
-- মধুতে রয়েছে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স, যা রক্তশূন্যতা, ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
--চা, কফি ও গরম দুধের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে হাঁচি, কাঁশি, জ্বর জ্বর ভাব, টনসিল, নাক দিয়ে পানি পড়া, জিহ্বার ঘা (ঠান্ডাজনিত) ভালো হয়।
--মধুর গুরুত্বপূর্ণউপকরণ ক্যালসিয়াম। ক্যালসিয়াম হাড়, চুলের গোড়া শক্ত রাখে, নখের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি করে, ভঙ্গুরতা রোধ করে।

Some wonder about the honey. [মধু সম্পর্কে কিছু আশ্চর্য কথা।]
=====================================
وَأَوْحَى رَبُّكَ إِلَى النَّحْلِ أَنِ اتَّخِذِي مِنَ الْجِبَالِ بُيُوتًا وَمِنَ الشَّجَرِ وَمِمَّا يَعْرِشُونَ (68
আপনার পালনকর্তা মৌমাছিকে আদেশ দিলেন: পর্বতে, গাছে ও উঁচু চালে বাড়ি তৈরী কর,
And your Lord inspired the bee, saying: ”Take you habitations in the mountains and in the trees and in what they erect.
ثُمَّ كُلِي مِن كُلِّ الثَّمَرَاتِ فَاسْلُكِي سُبُلَ رَبِّكِ ذُلُلاً يَخْرُجُ مِن بُطُونِهَا شَرَابٌ مُّخْتَلِفٌ أَلْوَانُهُ فِيهِ شِفَاء لِلنَّاسِ إِنَّ فِي ذَلِكَ لآيَةً لِّقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ (69
এরপর সর্বপ্রকার ফল থেকে খাও এবং আপন পালনকর্তার উন্মুক্ত পথে চলো। তার পেট থেকে বিভিন্ন রঙের পানীয় নির্গত হয়। তাতে মানুষের জন্য রয়েছে রোগের প্রতিকার। নিশ্চই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শন রয়েছে।
”Then, eat of all fruits, and follow the ways of your Lord made easy (for you).” There comes forth from their bellies, a drink of varying colour wherein is healing for men. Verily, in this is indeed a sign for people who think.
এই আয়াত ২ টির কথা আমরা কম বেশি সবাই জানি। এই আয়াত এটা স্পষ্ট যে মধু আমাদের জন্য কতখানি উপকারি।

মধু আল্লাহ পাকের বিশেষ একটি নেয়ামত ও রোগের প্রতিকার। মধু তৈরী ও সংরণের ব্যবস্থাও আল্লাহ পাকের কুদরতের এক আশ্চর্য নিদর্শন। মৌমাছি বিশেষজ্ঞগণ বলেনঃ বিভিন্ন ফল-ফুল থেকে মধুপোকা যে রস আহরণ করে, তা তার লালার সাথে মিশে মধুতে রূপান্তরিত হয়। বিজ্ঞানীদের দৃষ্টিতে মাত্র ১ কেজি মধু তৈরী হতে কমপক্ষে ৭০ হাজার পোকার ২৬ হাজার ফুলে ৫ হাজার বার যাতায়াত করতে হয়। এমনিভাবে মধু সংরণের বিষয়টিও অতি আশ্চর্যের। মধুপোকার জীবন প্রণালী ও শাসন ব্যবস্থা অনেকটা মানুষের ন্যায়। মানুষের যেমন একজন শাসক ও প্রধান থাকে, মৌমাছিরও একজন রাণী (শাসক/প্রধান) থাকে। সে তার প্রজাদের মধ্যে কর্ম বন্টন করে বিভন্ন পোকাকে বিভিন্ন দায়িত্বে নিযুক্ত করে। কাউকে পাহারাদারির, কাউকে বাচ্চা পালনের, কাউকে বাসা বানানোর, কাউকে মোম সংরণের এবং কাউকে মধু সংগ্রহের দায়িত্ব প্রদান করে। আল্লাহ পাক যেহেতু মধুকে মানুষের খাদ্য ও রোগ প্রতিকার হিসেবে সৃষ্টি করেছেন, সেহেতু তিনি মধু সংরণের ব্যবস্থাও অতি আশ্চর্যের সাথে করেছেন। কোন মৌমাছি যদি ময়লা-আবর্জনায় বসে অতঃপর মৌচাকে প্রবেশ করতে চায় তখন মৌচাকের বাইরে নিযুক্ত পাহারাদার পোকাগুলো তাকে ভিতরে প্রবেশ করা থেকে বিরত রাখে। এমনকি রাণীর আদেশে তাকে হত্যা করে ফেলে। এভাবে আল্লাহ তা’আলা মধুর সাথে যেন অপবিত্র কোন বস্তু মিশ্রিত হতে না পারে তার সুনিপুণ ব্যবস্থা করে রেখেছেন। তেমনিভাবে মধু যাতে নষ্ট না হয় সে জন্য তাদের লালার মধ্যে এমন এক অপূর্ব মেডিসিন (যা নেক্টার নামে পরিচিত) সৃষ্টি করে রেখেছেন যে, কালের পর কাল বয়ে গেলেও মধু নষ্ট হয় না।
মধু যে রোগ নিরাময়কারী তা অহীর দ্বারা প্রমাণিত, এতে কোন সন্দেহ নেই।
তাইতো রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মধু পান করানোর পর ডায়রিয়া আক্রান্ত লোককে রোগ বৃদ্ধি হওয়া সত্ত্বেও অটল অবিচলভাবে বারবার মধু পান করানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
অতঃএব, অহী দ্বারা প্রমাণিত চিকিতসার ব্যাপারে এই আকীদা ও বিশ্বাস রাখতে হবে যে, এতে নিঃসন্দেহে রোগের শিফা ও নিরাময় রয়েছে।
এখানে প্রশ্ন হতে পারে যে, বর্তমান ডাক্তারদের মতে, ‘মধু ডায়রিয়া রোগীর জন্য ক্ষতিকর’ অথচ উপরের আলোচনার দ্বারা একথা প্রমাণিত হয়েছে যে, ‘মধু সকল রোগের জন্য উপকারী’ এ বিরোধের সঠিক সমাধান কী?
উত্তর: যে সকল ডায়রিয়া বদহজমি বা পাকস্থলীর ক্রিয়ার গোলমালের কারণে হয়, সে সকল ক্ষেত্রে ‘মধু অবশ্যই উপকারী’ কিন্তু স্থান-কাল-পাত্র ভেদে এবং ব্যবহার পদ্ধতির পরিবর্তনের কারণে তার প্রভাব ও প্রতিক্রিয়ার মধ্যে পরিবর্তন ঘটা অস্বাভাবিক নয়।
যেমন-গরম ও ঠান্ডা দুধের প্রভাব বিপরীতমুখী। যার পেটের সমস্যা আছে আর যার পেটে কোন সমস্যা নেই এদের ক্ষেত্রেও দুধের প্রভাব বিপরীতমুখী। তাই বলে এ কথা বলা মোটেই ঠিক হবে না যে, দুধ স্বোস্থের জন্য তিকর। তদ্রুপ মধুর বেলায় স্থান, কাল, পাত্র ও সেবন প্রণালীর পরিবর্তনের কারণে প্রতিক্রিয়ার মধ্যে পরিবর্তন ঘটা অস্বভাবিক নয়। যেমন-গরম ও ঠান্ডা দুধের প্রভাব বিপরীতমুখী।
দুধ ও দই (যা দুধ দ্বারাই তৈরী করা হয়) এর প্রভাব বিপরীতমুখী। যার পেটের সমস্যা আছে আর যার পেটে কোন সমস্যা নেই এদের ক্ষেত্রেও দুধের প্রভাব বিপরীতমুখী। তাই বলে এ কথা বলা মোটেই ঠিক হবে না যে, দুধ স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর। তদ্রুপ মধুর বেলায় স্থান, কাল, পাত্র ও সেবন প্রণালীর পরিবর্তনের কারণে প্রতিক্রিয়ার মধ্যে পরিবর্তন ঘটাই স্বাভাবিক।

মধু বনাম চিনিঃ
একজন মানুষের জন্য দৈনিক যত ক্যালরি খাদ্য দরকার, তার ২২ ক্যালরি পাওয়া যায় এক চা চামচ মধুতে। একই পরিমাণ চিনিতে পাওয়া যাবে ১৫ ক্যালরি। তবু এক কেজি চিনির চেয়ে এক কেজি মধুর দাম অনেক বেশি। কারণ, চিনি যতটা সহজলভ্য মধু ততটা নয়। অবশ্য মধু চিনির চেয়ে দুষ্প্রাপ্য বলেই যে এর দাম বেশি, তাও নয়। আসলে চিনির চেয়ে মধুর দ্রব্যগুণটা মানব শরীরে অনেক বেশি সক্রিয়। তাই প্রাকৃতিকভাবে তৈরি মধুর কাছে কারখানায় তৈরি চিনি তেমন পাত্তা পায় না। খাদ্যবিজ্ঞানীরা দেখেছেন, মধুতে রয়েছে প্রচুর গ্লুকোজ আর ফলজ শর্করা। এটি দিয়ে লিভারে সঞ্চিত হয় প্রচুর পরিমাণে গ্লাইকোজেন। আর এতে শরীরে পাওয়া যায় অমিত শক্তি ও প্রাণচাঞ্চল্য।

মধুর দানাদার সমস্যাঃ
অনেক মধু দানাদার আকার ধারণ করে। যদি কোনো মধুতে গ্লুকোজের পরিমাণ ফ্রুক্টোজের চেয়ে বেশি থাকে তখন সে মধু অতি দ্রুত দানাদার হয়। যেমন সরিষা ফুলের মধু। আবার মধুতে পর্যাপ্ত পোলেন, ধুলাবালি ও বুদবুদ থাকলে সে মধু সহজে দানাদার হয়। সাধারণত ১১ থেকে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় মধু জমতে পারে। তবে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা মধু অতি দ্রুত জমতে সহায়ক। পানির পরিমাণ বেশি থাকলে মধুকে দানাদার হতে ত্বরান্বিত করবে। তবে দানাদার মধু খেতে কোনো সমস্যা নেই। দানাদার মধুকে পরোক্ষ তাপ প্রয়োগের মাধ্যমে তরল করা যায় বা কৃম মধুতে রূপান্তর করা যায়। দানাদার মধু ছয় মাসের মধ্যে ব্যবহার করা উত্তম।

সতর্কতাঃ
মধু সব রোগের মহৌষধ হলেও একটি কথা থেকেই যায়, সেটি হলো ডায়াবেটিস রোগের ক্ষেত্রে মধু খুবই বিপজ্জনক। কারণ এটি রক্তে সরাসরি শোষিত হয় বলে সহজেই দেহের রক্ত শর্করাকে উচ্চস্তরে নিয়ে আসবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। সুতরাং ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য মধু গ্রহণ নিষেধ।

তাছাড়া মধু সবার শরীরে গরম তৈরি করে। যেকোনো বয়সের মানুষ অধিক পুষ্টির আশায় বেশিমধু খেলে ডায়রিয়া হয়ে যাবে।
_____________________________________________
এই পেজের আগের পোস্ট গুলি মিস করে থাকলে আমাদের পেজে এসে সেগুলো দেখতে পারেন ঠিকানাঃhttps://www.facebook.com/Science.ICT.World
তথ্যসুত্রঃ প্রিয়, বাংলা নিউজ২৪,শব্দনীড়
লেখকঃ রুমানা বৈশাখী,সাইদুল ইসলাম
[ বিঃ দ্র: ফেসবুকের নিয়ম অনুসারে পেইজ এর পোস্ট এ নিয়মিত লাইক, কমেন্ট, শেয়ার না করলে ধীরে ধীরে আপনার হোম পেজে পোস্ট আর দেখতে পাবেন না।। তাই পোস্ট ভাল লাগলে লাইক/ কমেন্ট/ শেয়ার দিয়ে পেজে একটিভ থাকুন ]

লেখা টি ভালো লাগলে এই পেজে লাইক দিন এবং বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না।...........ধন্যবাদ

1 comment:

  1. বচ,অনেক মজা পেলাম ।লেখাটা খুব সুন্দর হয়েছে । তবে এরকম আরো একটি লেখা পড়েছিলাম এখানে> http://muktomoncho.com/archives/1536

    ReplyDelete