Monday, March 3, 2014

চকলেট কথন বিস্তারিত এবং চকলেটের জগতে স্বাগতম

এমন কাউকে পাওয়া যাবে না যিনি তার জীবনে একবারও চকলেট খাননি। ছোট-বড় সবার কাছেই চকলেট খুব আকর্ষণীয় একটি খাবার। কিন্তু প্রশ্ন হলো, চকলেট কেন এত মজা লাগে। অনেকে হয়তো বলবে, এমনি এমনিই মজা লাগে। কিন্তু আসল কারণটা চকলেট বানানোর মধ্যেই নিহিত। চকলেট বানাতে বেশকিছু উপাদান মেশানো হয়, আর সেগুলোর কারণেই চকলেট এত মজার। এ নিয়ে লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম। খাবারের জগতে চকলেট একটি লোভনীয় নাম। ছোটরা তো বটেই, বড়রাও চকলেটের লোভ সামলাতে পারেন না সহজে। নানা ধরনের, নানা স্বাদের, নিত্য নতুন ধরনের চকলেট জিভে জল এনে দেয় সকলের। চকলেটের নাম চকলেট কেন হলো জানেন? ইংরেজা ভাষায় chocolate শব্দটা এসেছে স্প্যানিশ ভাষা থেকে। তবে স্প্যানিশ ভাষায় এই শব্দটা কীভাবে এসেছে, তা নিয়ে রয়েছে মতভেদ। ধারণা করা হয়, নাহুয়াতি ভাষা, অর্থাত্‍ অ্যাটজেকদের ভাষার শব্দ chocolatal থেকে এসেছে chocolate শব্দটি। এই chocolatal এসেছে xocolatl থেকে। xococ এর অর্থ হলো তেতো এবং atl এর অর্থ হলো তরল বা পানীয়। আবার অনেকের ধারণা, chocolate শব্দটা অ্যাজটেক ও মায়ান দু ভাষা থেকেই এসেছে! মায়ান ভাষায় chokol মানে গরম এবং নাহুয়াতি ভাষায় atl মানে পানীয়। এবং এ দুটো শব্দের সমন্বয় ও বিবর্তনেই এসেছে chocolate শব্দটি। 

চকলেট তৈরির মূল উপকরণ হলো কোকোয়া গাছের বীজ! দক্ষিণ আমেরিকার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এলাকা আমাজন উপত্যকার উদ্ভিদ এটি। কোকোয়া গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Theobroma cacao। গ্রীক ভাষায় Theos মানে ঈশ্বর এবং broma মানে খাদ্য। অর্থাত্‍ এটি ঈশ্বরের খাদ্য! কোকোয়া গাছ খুব বেশি বড় হয় না। বড়জোর ২০-২৫ ফুট পর্যন্ত উঁচু হয়। এটি চিরসবুজ বৃক্ষ এবং গাছের পাতা গাঢ় সবুজ রঙের। কাণ্ড ও ডালে সাদা ও গোলাপি রঙের ছোট ছোট, থোকা থোকা ফুল ফোটে। কোকোয়া ফল দেখতে অনেকটা নাশপাতির মতো। পেকে গেলে মেটে লাল বা হলুদ রং ধারণ করে। ভেতরে ছোট ছোট বীজ থাকে। এই বীজ শুকিয়ে নিয়ে গাজানোর পর তা গুঁড়ো করা হয়। এই গুঁড়ো থেকেই তৈরি হয় চকলেট।
আসলে চকলেট তৈরিতে কোকোয়া ব্যবহার করা হয় দুভাবে। এর গুঁড়ো অথবা কোকোয়ার মাখন। সাধারণ মিষ্টি চকলেট বা মিল্ক চকলেটে ব্যবহার করা হয় কোকোয়ার মাখন, চিনি, দুধ ও অন্যান্য উপকরণ। এতে কোকোয়ার গুঁড়ো মেশানো হয় না। ডার্ক চকলেট তৈরিতে ব্যবহার করা হয় কোকোয়ার গুঁড়ো।
প্রায় তিনশ বছর ধরে আমেরিকা ও মেক্সিকোতে কোকোয়া গাছের চাষ হচ্ছে। এর ব্যবহারের সবচেয়ে পুরোনো পাওয়া গেছে লিখিতভাবে। এটি লেখা হয়েছিল খ্রীষ্টপূর্ব ১১০০ অব্দে! মেসোআমেরিকান লোকেরা কোকোয়া থেকে তৈরি করত বিশেষ ধরনের পানীয়। ক্রিস্টোফার কলম্বাস ১৪৯৫ সালে মধ্য আমেরিকা থেকে কোকোয়ার বীজ ইউরোপে নিয়ে আসে। চকলেট পানীয় তৈরি করতে ইউরোপীয়রা এতে দুধ ও চিনি যোগ করে, যা মেক্সিকানরা করত না! পরে ফরাসীরা এই গাছের সন্ধান পায়। ১৬৫৭ সালে এক ফরাসী নাগরিক 'চকলেট হাউস' প্রতিষ্ঠা করে একে জনপ্রিয় করে তোলেন। দীর্ঘদিন চকলেট পানীয় হিসেবেই খাওয়া হতো।
১৯ শতকে Briton John Cadbury প্রথম চকলেটকে শক্ত আকার দিতে সক্ষম হন। বর্তমান সময়ের আধুনিক চকলেট বারের তিনিই জনক। ১৮৯০ থেকে ১৯৫০ সালে কোকোয়া চাষের প্রসার ঘটে। আমেরিকা-মেক্সিকো তো বটেই, এর চাষ শুরু হয় আইভরি কোস্ট, ঘানা, নাইজেরিয়া ও ক্যামেরুনে। মালয়েশিয়া, নিউগিনি ও ইন্দোনেশিয়াতেও কোকোয়া চাষ করা হয়।
চকলেট নানা উপলক্ষের উপহার হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। নববর্ষ, ঈস্টার, বড়দিন, জন্মদিন, ভালবাসা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন ধরনের চকলেট তৈরি করে থাকে চকলেট কোম্পানিগুলো। ডিম, খরগোশ, মুদ্রা ও হৃদয় আকৃতির চকলেট সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়।
চকলেট নিয়ে গবেষণারও অন্ত নেই! যাঁরা নিয়মিত চকলেট খান, তাঁদের স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে যায় এমনটা বলেছেন সুইজারল্যান্ডের কিছু গবেষক। তাঁরা প্রায় ৩৩ হাজারের বেশি নারীর ওপর একটা জরিপ চালিয়ে এই তথ্য দেন। তবে চকলেট অধিক পরিমাণে খাওয়া যাবে না। চকলেটে চর্বি ও চিনি থাকায় এতে উচ্চ পরিমাণে ক্যালরিও আছে! ডার্ক চকলেটে কোকোয়ার পরিমাণ বেশি থাকায় তা বেশি উপকারী।
আরেকটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, প্রতিদিন চকলেট খেলে বৃদ্ধদের স্মৃতিভ্রম প্রতিরোধ করা সম্ভব। এ গবেষণাটি করেছেন ইতালির লেককুইল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। ৯০ জন বয়স্ক, স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া রোগীর ওপর এ পরীক্ষণটি করা হয়। বৃদ্ধদের টানা আট সপ্তাহ কোকো পানীয় পান করানো হয় বিভিন্ন মাত্রায়। উচ্চ মাত্রার পানীয় যাঁদের দেয়া হয়েছিল, তাঁদের স্মৃতিশক্তি বাড়তে দেখা যায়!
শুধু কি গবেষণা! চকলেট দিয়ে তৈরি করা হয় স্থাপনাও! চকলেট দিয়ে সবচেয়ে বড় স্থাপনাটি তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ইরভাইনে অবস্থিত 'ইনস্টিটিউট অব চকলেট অ্যান্ড পেস্ট্রি'।
তারা তাদের প্রতিষ্ঠানের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে গত বছর এটি তৈরি করে। চকলেট উত্‍পাদনের ইতিহাসকে সম্মান জানাতে তারা মায়া সভ্যতার একটি মন্দির 'চিচেন ইত্‍জা'র নকশা অনুযায়ী এটি তৈরি করে। ছয় ফুট উঁচু এবং ১০X১০ ফুট প্রশস্ত এই স্থাপনাটি তৈরি করতে প্রয়োজন হয়েছে ১৮ হাজার ২৩৯ পাউন্ড বা প্রায় ৯ টন চকলেট! এবং এর পুরোটাই খাবার যোগ্য!
চকলেটের ৩০০০ বছরের পুরোনো ইতিহাসকে তুলে ধরার জন্য রয়েছে 'চকলেট মিউজিয়াম'ও! জার্মানির কোলন শহরে অবস্থিত এই মিউজিয়ামটি বিশ্বের প্রথম এবং একমাত্র চকলেটের মিউজিয়াম। ৪০০০ বর্গমিটার জায়গাজুড়ে কাচ ও ধাতুর তৈরি এই মিউজিয়ামটি দেখতে ঠিক জাহাজের মতো! চকলেট কোম্পানি 'স্টলভের্ক'-এর মালিক হ্যান্স ইমহোফ এটি তৈরি করেন ১৯৯৩ সালে। এখানে চকলেটের জন্ম থেকে শুরু করে চকলেট সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য রয়েছে।
নানা স্বাদের চকলেটঃ

সারাবিশ্বে চকলেট কোম্পানিগুলো নানা স্বাদের চকলেট বানায়। তার মধ্যে মিল্ক চকলেটই সবার বেশি প্রিয়। এ ছাড়া ডার্ক চকলেট, হোয়াইট চকলেট অনেকেই পছন্দ করেন। বিভিন্ন দেশের সরকার মিল্ক চকলেটে দুধ ও অন্যান্য উপাদান নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। আমেরিকায় চকলেটে শতকরা ১০ ভাগ চকলেট-লিকার থাকতে হয়। আর ইংল্যান্ডে মিল্ক চকলেটে কমপক্ষে শতকরা ২৫ ভাগ সলিড কাকাউ থাকতে হয়। অন্যদিকে ডার্ক চকলেটের ক্ষেত্রে আমেরিকায় ১৫ ভাগ চকলেট-লিকার এবং ইংল্যান্ডে ৩৫ ভাগ সলিড কাকাউ থাকতে হয়। আবার চকলেটের স্বাদ আরও আকর্ষণীয় করার জন্য চকলেটে মিন্ট, কমলা বা স্ট্রবেরির স্বাদ যোগ করা হয়। এছাড়া মাঝে মাঝে বাদাম, ফল, ক্যারামেল এমনকি মচমচে দানাশস্যও ব্যবহার করা হয়।

চকলেটের ইতিহাসঃ

কাকাউ গাছের বীজ থেকে চকলেট তৈরি করা হয়। গ্রিক শব্দ থিওব্রামার অর্থ হলো দেবতার খাদ্য। ৯০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে দক্ষিণ আমেরিকার প্রাচীন আজটেকস জাতি কাকাউ গাছকে গভীরভাবে ভক্তি করত এবং এর বীজ মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করত। তারা এ গাছকে ক্ষমতা ও সম্পদের উত্স বলে মনে করত। এরপর আজটেক জাতি আবিষ্কার করল যে কাকাউ বীজ গুঁড়ো করে তার সঙ্গে মশলা মিশিয়ে চমত্কার সতেজকারী ও সুস্বাদু পানীয় বানানো যায়। তবে এ পানীয় বর্তমান সময়ের চকলেটের তুলনায় অনেক বেশি তিতা স্বাদের ছিল। এর সঙ্গে মিষ্টি সুগন্ধ মিশিয়ে পান করতে হতো। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, পৃথিবীতে প্রথম চকলেটের প্রচলন শুরু হয় আজ থেকে প্রায় তিন হাজার একশত বছর আগে। তখন থেকেই কাকাউ পানীয় ব্যয়বহুল বিলাসী খাবারের মর্যাদা পায়। এর কয়েক বছর পরেই ১৮৩১ সালে ব্রিটেনে ক্যাডবেরি নামে একটি চকলেট ফার্ম চকলেট উত্পাদন শুরু করে। রুডলফের আবিষ্কৃত চকলেটই ছিল প্রথম মজাদার চকলেট। এ সময় থেকেই চকলেটের আসল মজা পেতে শুরু করে মানুষ। 

কেমন করে এল মিল্ক চকলেটঃ

১৮৭৫ সালে সুইজারল্যান্ডের নাগরিক ড্যানিয়েল পিটার প্রথম মিল্ক চকলেট তৈরি করেন। এর ফলে কালো শক্ত চকলেটের চেয়ে এ চকলেটটি মিষ্টি ও নরম হওয়ায় অনেক বেশি জনপ্রিয়তা পায়। এরপর ১৮৭৯ সালে রুডলফ লিন্ড সবচেয়ে পছন্দের চকলেটের রেসিপি তৈরি করে সবার মন কাড়েন।

এরপর একে একে ক্যাডবেরি ও হার্শে নামের চকলেট কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯০৫ সালে ক্যাডবেরি ডেইরি মিল্ক নামে যে চকলেট বাজারে আনে তা সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পায়। কেবল ওই সময়েই নয়, বর্তমানেও এ চকলেট বেশ জনপ্রিয়। বর্তমানে সারা পৃথিবীতে মিল্ক চকলেটই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়।

চকলেট খেতে তো ছোট বড? সবাই অনেক ভালোবাসে। আর মেয়েদের জন্য চকলেট তো পুরাই অন্যব্যাপার। পৃথিবীর অনেক জায?গায? চকলেট নিযেই গড়ে উঠেছে অনেকগুলো যাদুঘর। কলম্বাস যখন আমেরিকা জয? করেন তখন তিনি সঙ্গে করে এনেছিলেন কোকো দানা। কোকো থেকেই তৈরি হয? মজাদার সব চকলেট। সেই সময? কেউ তো জানতো না এ দিয়ে কি করতে হয?। প্রায? ১০০ বছর পরে ষ্পেনের এক ব্যক্তি গরম চকলেট পান করার পতি বের করেন। আর শক্ত চকলেট বানানোর ইতিহাসটা এরও ৫০ বছর পরের ঘটনা। গোটা একটা জাদুঘর যদি হয? চকলেট নিযেই তাহলে কেমন হয?! সেই জাদুঘরে গেলে চকলেটের সব ইতিহাস জানার পাশাপাশি পৃথিবীর যাবতীয? চকোলেটের নমুনাও নিজ চোখেই দেখে আসা যায?। এরকম কিছু চকলেট জাদুঘর হলো হেইন্ডল চকলেট জাদুঘর (ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া), ক্যাডবেরি চকলেট জাদুঘর (বার্মিংহাম, যুক্তরাজ্য), হার্শেই চকলেট ওয়ার্ল্ড (হার্শেই, যুক্তরাষ্ট্র)? এছাড়াও রয়েছে জার্মানির লিন্ডট চকলেট মিউজিয়াম এবং সুইজারল্যান্ডের আল্পরোজ শকোল্যান্ড চকলেট মিউজিয়াম।

কোকোয়াঃ


কোকো বা কোকোয়া দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন উপত্যকার উদ্ভিদ। যার বীজ থেকে চকলেট তৈরি হয়। মধ্য আমেরিকার আরও কয়েকটি দেশে এর চাষ সম্প্রসারিত হয়েছে ক্রমান্বয়ে। তারপর আফ্রিকার আইভরি কোস্ট, ঘানা,নাইজেরিয়া ও ক্যামেরুনে এর চাষ শুরু হয়। এরপর এশিয়ার মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও নিউগিনিতে সূচনা হয় এর চাষ। দক্ষিণ ভারত ও উড়িষ্যা রাজ্যেও এর চাষ দেখা যায়।
কোকোয়ার বৈজ্ঞানিক নাম Theobroma cacao। গ্রিক ভাষায় Theos মানে ভগবান আর broma মানে খাদ্য অর্থাৎ ভগবানের খাদ্য। এর পরিবারের নাম Sterculiaceae। গাছ বেশি বড় হয় না। বড়জোর ২৫ ফুট উঁচু হতে পারে। তবে কোকোয়ার বড় বড় বাণিজ্যিক বাগানে ছাঁটাই করে গাছকে ছোট রাখা হয়। আর বড় বড় ছায়াবীথির নিচে এদের শ্রীবৃদ্ধি। চির সবুজ বৃক্ষ। পাতা একান্তর, ঘন সবুজ ও আয়ত। গুচ্ছ গুচ্ছ ফুল ফোটে গাছের কাণ্ডে ও ডালে। ফুল ছোট, হালকা গোলাপি ও সাদা। ফলে অনেক শিরা, আকারে অনেকটা নাশপাতি ফলের মতো। পাকা ফলের ভেতরে পেঁপের মতো ফাঁকা আর পাঁচ সারির ছোট ছোট বীজ থাকে।


ইতিহাসঃ
কোকোয়া ফল ক্রিস্টোফার কলম্বাস ১৪৯৫ সালে মধ্য আমেরিকা থেকে ইউরোপে নিয়ে এসেছিলেন। তবে স্পেনীয় জেনারেল কোরেটজ ১৫২০ সালের মাঝামাঝি এই ফল স্পেনে আমদানি করেন। পরে ফরাসিরা এই গাছের সন্ধান পায়। ১৬৫৭ সালে এক ফরাসি নাগরিক লন্ডনে ‘চকলেট হাউস’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমের চকলেট জনপ্রিয় করে তোলেন। ১৮৯০ সাল থেকে শুরু হয়ে ১৯৫০ সালের দিকে এর চাষের বেশি প্রসার ঘটে। বর্তমানে পৃথিবীর ৪৩ শতাংশ কোকোয়া উৎপাদন হয় আইভরিকোস্ট থেকে।


চাষঃ
বিশ্বজনীন ৭০,০০০ বর্গকিলোমিটারের (২৭,০০০ বর্গমাইল) ওপরে কোকোয়া চাষ করা হয়। খাদ্য এবং কৃষি সংস্থার (FAO) ২০০৭ সালের পরিসংখ্যান হিসেবে অনুসারে:
শ্রেণী, দেশমূল্যউত্পাদিত বস্তু
(Int $১,০০০*)MT
১  কোত দিভোয়ার১,০৬৫,৯২৯১,৩৮৪,০০০
২  ইন্দোনেশিয়া৫৬৯,৯৩৭৭৪০,০০৬
৩  ঘানা৪৭৩,৬৬০৬১৫,০০০
৪  নাইজেরিয়া৩৮৫,০৯০৫০০,০০০
৫  ব্রাজিল১৫৫,৩০৭২০১,৬৫১
৬  ক্যামেরুন১৩৮,০৪৬১৭৯,২৩৯
৭  ইকুয়েডর৬৬,১৫১৮৫,৮৯১
৮  টোগো৬০,০৭৪৭৮,০০০
৯  কলম্বিয়া৪৮,০২৬৩৯,৯০৪
১০ টেমপ্লেট:Country data পাপুয়া নিউগিনি৩৬,৪২৯৪৭,৩০০
১১  ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র৩২,৪৬৬৪২,১৫৪
১২  পেরু২৪,১৭৩৩১,৩৮৭
১৩  মালয়েশিয়া২৩,১০৫৩৫,১৮০
১৪  মেক্সিকো২৩,০৩৬২৯,৯১০
১৫  ভেনেজুয়েলা১৪,৫৬৪১৮,৯১১
১৬  সিয়েরা লিওন১০,৭৮২১৪,০০০
১৭  গিনি৯,৬১৪১২,৪৮৪
১৮  গুয়াতেমালা৯,০৯৩১১,৮০৭
১৯ উগান্ডা৮,১৬৩১০,৬০০
২০  ভারত৭,৮৪০১০,১৮০


চকলেট উৎপাদনঃ

সব মিলিয়ে প্রায় ৩০টির মতো বীজ থাকে প্রতিটি ফলে। পাকলে কোনো জাতের ফলের রং হয় মোটো লাল আবার কোনোটার গাঢ় হলুদ। পাকা ফলের ভেতরের বীজ বের করে শুকিয়ে তাকে ফারমেনটেশন বা গাঁজাতে হয়। তারপর তাকে রোস্ট করে গুঁড়া করতে হয়। এর পাউডার থেকেই চকলেট তৈরি হয়। বছরে দুবার ফল সংগ্রহ করতে হয়। কোকোয়া গাছ শীতল ও গরম হাওয়া কোনোটাই সহ্য করতে পারে না। সে জন্য বড় বড় গাছের সারি দিয়ে কোকোয়ার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে হয়।

খাদ্রগুণঃ

কোকোয়ার বীজে আছে থিওব্রোমাইন, ক্যাফেইন ও রঙিন বস্তু। সার্বিকভাবে বীজ উত্তেজক, মূত্র রোগে উপকারী। থিওব্রোমাইন স্নায়ুবিক রোগের টনিক হিসেবে ব্যবহূত হয়। হূদজনিত রোগে ‘এনজাইমা পেক্টোরিস’-এর ব্যথা উপসম করতে পারে চকলেটের কাত্থ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ও বুকের ব্যথায় চকলেট পানীয় খেতে দেওয়া হতো। ফলের নরম শাঁস থেকে কোকোয়া-মাখন তৈরি হয়। এর প্রলেপ ত্বক কোমল রাখতে সাহায্য করে থাকে।


চকলেটঃ
চকলেট বলতে নানা প্রকার প্রাকৃতিক ও প্রক্রিয়াজাত খাবারকে বোঝায় যা গ্রীষ্মমন্ডলীয় কোকোয়া গাছের বীজ থেকে উৎপাদন করা হয়। গ্রীষ্মমন্ডলীয় দক্ষিণ আমেরিকার নিম্নভূমির স্থানীয় উদ্ভিদ কোকো অন্তত তিনশ' বছর মধ্য আমেরিকা ও মেক্সিকোতে চাষ করা হচ্ছে, এবং এর ব্যবহারের সবচেয়ে পুরনো লিখিত প্রমাণ হল ১১০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের। বেশিরভাগ মেসোআমেরিকান লোকজনই চকলেট পানীয় তৈরি করত, যার মধ্যে আছে মায়া ও আজটেকরা, যারা xocolātl নামে একটি পানীয় তৈরি করেছিল, নাহুয়াতি ভাষায় যে শব্দটির মানে দাঁড়ায় তেতো পানীয়। কোকো গাছের বীজের তীব্র তেতো স্বাদ আছে, তাই চকলেটের স্বাদগন্ধ (Flavor) তৈরি করবার জন্যে অবশ্যই একে গাঁজিয়ে নিতে হয়।
চকলেট পৃথিবীর জনপ্রিয়তম ফ্লেভারগুলোর একটি। বিভিন্ন পালাপার্বণে হরেক রকম চকলেট উপহার দেবার রীতি চালু আছে: ঈস্টার পরবে চকলেটের খরগোশ ও ডিম উপহার খুবই জনপ্রিয়, চকলেটের মুদ্রা হানুক্কাহ, সান্তা ক্লজ ও ক্রিসমাসের অন্যান্য উৎসব প্রতীক, এবং ভালোবাসা দিবসে চকলেটের হৃদয়। চকলেট ঠান্ডা ও গরম পানীয়, চকলেট দুধ এবং গরম চকলেট প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হয়।

চকলেটের দেশঃ
চকলেট দুনিয়ার অনেক দেশেই বিখ্যাত।এদের মধ্যে বেলJজিয়াম,সুইজারল্যান্ড,ইতালি,ইত্যাদি চকলেটের জন্য সবচেয়ে বেশি বিখ্যাত।নিউহস,লিন্ডট,লিওনিদাস,হারশে'স,ফেরারো,ইত্যাদি চকলেটের বিখ্যাত ব্র্যান্ড।

চকলেট খেলে কমে ওজন, বাড়ে আয়ুঃ

চকলেটপ্রেমীদের জন্য সুখবর। নতুন সমীক্ষায় উঠে এসেছে যারা চকলেট খান তারা, যারা চকলেট খান না তাদের থেকে অনেক সহজে ওজন ঝরাতে পারেন। 
ইয়গভ নামের একটি এজেন্সির করা সমীক্ষায় দেখা গেছে ৮৬% ক্ষেত্রে স্লিম চেহারার যারা চকলেটের স্বাদ থেকে নিজেদের বঞ্চিত করেননি তারা সহজে ওজনও কমিয়েছেন। 
২১০০ জনের উপর করা সমীক্ষাতে দেখা গেছে ৯১% মানুষ যারা ওজন কমানোর চেষ্টা করেছেন কিন্তু চকলেট খাওয়ার পরিমাণ একটুও কমাননি তাদের ওজন ঝরানোর প্রক্রিয়ায় তারা সহজে এবং দ্রুত রোগা হয়েছেন। 
এই সমীক্ষার দায়িত্বে থাকা নিট্রিশিয়ন বিজ্ঞানী জ্যানেট অ্যালোট জানিয়েছেন এই সমীক্ষা প্রমাণ করেন ওজন কমানোর জন্য খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দেওয়াটা মোটেই বুদ্ধির কাজ না। নিজেদের চকলেটের স্বর্গীয় স্বাধ থেকে বঞ্চিত করে ওজন কমানোর চেষ্টায় মোটেও ফল পাওয়া যায় না। 
অন্যদিকে, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষকের গবেষণায় উঠে এসেছে চকলেট খেলে বাড়ে আয়ুও। ৬৫ বছর ধরে ৮০০০ মানুষের উপর পরীক্ষা করে দেখা গেছে মাসে যারা অন্তত তিনবার পরিমিত পরিমাণের চকলেট খান তাদের আয়ু, যারা চকলেট খান না তাদের তুলনায় প্রায় এক বছর বেশী হয়।

চকলেট দূর করে যে ৮টি শারীরিক সমস্যা!:

চকলেট ভালোবাসেন না এমন মানুষ খুব কম খুঁজে পাওয়া যাবে। কিন্তু অনেকেই মনে করেন যত সুস্বাদুই হোক চকলেট আসলে স্বাস্থ্যের জন্যে খুব একটা ভালো নয়। এর কারণে বাড়তে পারে ডায়াবেটিস ও ওজন। কিন্তু সাধারণ এই ধারণাটিকে মিথ্যা প্রমাণ করেছেন বিজ্ঞানীরা আর এই লোভনীয় খাবারটি, বিশেষত ডার্ক চকলেট নিয়ে তাদের নানা গবেষণায় উঠে এসেছে চকলেটের নানা উপকারী দিক।

১) স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়ঃ

সুইডেনের একটি গবেষণা অনুসারে, সপ্তাহে গড়ে ৪৫ গ্রাম চকলেট ২০ শতাংশ পর্যন্ত আপনার স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়। চকলেটে থাকা ফ্লেভোনয়েড নামক এন্টি অক্সিডেন্ট স্ট্রোকের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। চকলেট-প্রেমীদের জন্য সুসংবাদ এনেছেন গবেষকরা। তারা বলছেন, গাঢ় রঙের চকলেট রক্তচাপকে স্বাভাবিক মাত্রায় নামিয়ে আনে। মিল্ক চকলেটের চেয়ে ডার্ক চকলেটকেই এগিয়ে রাখছেন তারা। বিশেষ করে যারা উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন অথচ চকলেট পছন্দ করেন। কিন্তু চকলেট খেতে চিকিৎসকের কড়া বারণ। তারা এবার বেশ সহজেই অজুহাত দেখানোর একটা সুযোগ পাবেন। ২০টি গবেষণায় প্রাপ্ত ফল বিশ্লেষণের পর গবেষকরা বলছেন, প্রতিদিন ডার্ক চকলেট খাওয়ার ফলে রক্তচাপ খানিকটা কমিয়ে আনা সম্ভব। চকলেটের মূল উপাদান কোকোয়া রক্ত প্রবাহের ধমনীকে শিথিল করে। ফলে রক্ত বেশ সহজে চলাচল করে ও রক্তচাপ কমিয়ে আনে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। অবশ্য এর চেয়ে রক্তচাপ কমানোর অনেক ভাল উপায় রয়েছে। গবেষকরা একটি দলের প্রত্যেককে প্রতিদিন ৩ থেকে ১০৫ গ্রাম পর্যন্ত চকলেট খেতে দেন। পর্যবেক্ষণে তারা দেখতে পান রক্তচাপে ইতিবাচক পরিবর্তন। তবে সেটা খুব সামান্য। 

২) হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়ঃ

এটা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে, রক্তের প্লেটলেটের কাজ অনেক সহজে দেহে ঘটে চকলেট গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে। এভাবে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে যায়। অনেক চকলেটপ্রেমীরা ভয়ে চকলেট খান না, তারা মনে করেন খেলে শরীরের ক্ষতি হবে। এই আশঙ্কাটি ভুল প্রমাণ করলেন একদল বিজ্ঞানী।
 
গবেষণায় দেখা গেছে ডার্ক চকলেটের বিশেষ উপাদান ফ্লেভানল শরীরের কোনো ক্ষতি করে না বরং শরীরকে সুস্থ্য রাখতে সহায়তা করে।
 
ডার্ক চকলেট শরীরের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করে। যাদের রক্তনালীর সমস্যা রয়েছে তারা যদি নিয়মিত ডার্ক চকলেট খান তাহলে তাদের সমস্যা কেটে যাবে।
 
এছাড়া ডার্ক চকলেটে বিদ্যমান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোলেস্টরলের মাত্রা কমিয়ে রক্তনালীকে ভালো রাখে।

৩) ত্বক রক্ষার ক্ষেত্রেঃ

জার্মান বিজ্ঞানীদের মতে ডার্ক চকলেটে থাকা Flavonoids ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর বেগুনী রশ্মি থেকে রক্ষা করার এন্টিবডি তৈরি করে। তবে সানস্ক্রীনও ব্যবহার জরুরী।

৪) কাশির উপশমেঃ

কাশির উপশমে আদা, লবঙ্গ, চা, কিছুই তো ট্রাই করলেন কিন্তু সবচেয়ে সুস্বাদু উপায়টি হল চকলেট। চকলেটে থাকা উপাদান থিওব্রোমিন মস্তিস্কের thevagus নামক নার্ভটিঢ় কাজকে নিয়ন্রণ করতে পারে কিছুটা। এই নার্ভটির কাশির সঙ্কেত পাঠায়।

৫) আয়ু বাড়ায়ঃ

চকলেট আপনার আয়ু দু বছর পর্যন্ত বাড়াতে পারে। পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘায়ূ ব্যাক্তি Jeanne Louise Calment মারা যান ১২২ বছর বয়েসে। তিনি রোজ আড়াই পাউন্ড করে ডার্ক চকলেট খেতেন।

৬) ক্যান্সার প্রতিরোধেঃ

চকলেটে ব্যবহৃত উপাদান কোকোয়াতে থাকে pentameric procyanidin নামে একটি দারুণ উপকারী উপাদান। যা ক্যান্সার আক্রান্ত কোষগুলোকে ছড়িয়ে পড়তে বাধা দেয়। ২০০৫ সালে জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির লোম্বার্ডি কম্প্রিহেনসিভ ক্যান্সার সেন্টার এর একটি গবেষণায় দেখা যায়, pentameric procyanidin ক্যান্সারের কোষগুলোকে বিভক্ত হতে বাধা দিচ্ছে।

৭) ডায়াবেটিস প্রতিরোধেঃ

University of L’Aquila এর একটি গবেষণায় দেখা যায়, নিয়মিত চকলেট গ্রহনের ফলে তা দেহে ইনসুলিনের সংবেদনশীলতা বাড়ায়। এর ফলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে।

৮) মস্তিস্কের জন্যে উপকারীঃ

চকলেট মস্তিস্কে রক্তচলাচলে সহায়তা করে। এর ফলে আপনার মস্তিস্কের কার্যাবলী অত্যন্ত সঠিক ও সুন্দরভাবে নিয়ন্ত্রিত হওয়। বলা চলে, চকলেট খাওয়া আর ব্রেইনে রক্ত সরবরাহ করা একই কথা। আর মস্তিস্ক যত সচল থাকবে আপনিও ততটাই সতেজ থাকবেন।
চকলেটের উপকারিতা আছে এটা সত্যি। কিন্তু তাই বলে চকলেটের প্রতি আসক্ত হয়ে যাবেন না যেন! নিয়মিত কিন্তু অল্প পরিমানে চকলেট খান। তবে চিনি বিহীন বা অল্প চিনির ডার্ক চকলেট। সুস্থ থাকুন।

5 comments:

  1. আমি চকলেট ব্যবসা করতে ইচ্ছুক,কিভাবে করলে ভাল হবে জানালে খুশি হতাম।
    উপকরন গুলো সহজে কোথায় পাব?

    ReplyDelete
    Replies
    1. আমাকে মেসেজ/কল করতে পারেনঃ ০১৬৭৮১৭০৯০১

      Delete
  2. আসসালামুয়ালাইকুম
    আমি চকলেটের ব্যাবসা করতে চাই কিন্তূ আমি কী ভাবে কাজ করবো তা জানিনা আমাকে হেল্প করলে খুব খুশি হতাম।

    ReplyDelete
    Replies
    1. আমাকে মেসেজ/কল করতে পারেনঃ ০১৬৭৮১৭০৯০১

      Delete
  3. চকলেট পাইকারি কিনে নিজ কোম্পানীর নামে পন্য বাজারজাত করতে চাই,কিভাবে সমভব জানতে চাই।

    ReplyDelete