Saturday, October 26, 2013

বয়সের সঙ্গে পাল্টে মানুষের গানের রুচি

বয়সের সাথে সাথে সঙ্গীতের প্রতি মানুষের পছন্দ-অপছন্দ পাল্টাতে থাকে। গানের চটুল ঢং থেকে ক্রমাগত সরে আসতে থাকে নরম সুরের দিকে। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় সম্প্রতি এ বিষয়টি উঠে এসেছে।

"আমাদের পছন্দের গানগুলি তখন আমাদের ব্যক্তিগত জীবনের নানা পর্যায়ের অভিজ্ঞতার সঙ্গে একাকার হয়ে যায়"- এমনটাই বলছেন গবেষকরা। কিশোর বয়স থেকে মধ্যবয়সে আসার পথে মানুষ কি প্রক্রিয়ায় এর সঙ্গে যুক্ত হয়- এর ওপর এটাই প্রথম গবেষণা বলে দাবি করেন তাঁরা।

সঙ্গীতের বিভিন্ন ধারাকে চটুল, অবিশুদ্ধ বা প্রচলিত জনপ্রিয় ধারা, সমকালীন, নিরহঙ্কারবাদী ও উচ্চমার্গীয় ধারা- এই পাঁচ ভাগে ভাগ করেন গবেষকরা। এরপর দশ বছর থেকে বিভিন্ন বয়সের আড়াই লক্ষাধিক মানুষের ওপর জরিপ চালিয়ে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে গবেষণাটি পরিচালনা করেন তাঁরা।

এতে দেখা যায় যে, সঙ্গীতের প্রথম গ্রেডের শ্রোতারা অর্থাৎ কিশোররা প্রচণ্ড চটুল গান থেকে ক্রমান্বয়ে সমকালীন গানের দিকে ঝুঁকতে থাকে। চটুল গান বলতে তেজোদীপ্ত বা বাজে বলে পরিচিত গানগুলি থেকে কিশোররা বয়ঃসন্ধিতেই সরে আসতে থাকে এবং যৌবনপ্রাপ্তির শুরুতেই পুরোপুরি সরে এসে সমকালীন গান যেমন: পপ কিংবা র‍্যাপ গানে এসে ঠেকে। এটা চলতে থাকে মধ্যবয়সের শুরু পর্যন্ত।

আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা দ্বারা টিন-এজাররা প্রভাবান্বিত এবং এ ক্ষেত্রে সঙ্গীত হচ্ছে সহজলভ্য ও কার্যকরী একটি জিনিস'- বলেন দলের জ্যেষ্ঠ গবেষক ড. জ্যাসোন রেন্টফ্রো।

যৌবনপ্রাপ্তির শুরুতে এই চটুল গানই কিশোরদের নরম ও মিষ্টি সুরের গানের সঙ্গে পরিচিত করায়। তাদেরকে নিয়ে যায় সমকালীন গানের স্রোতের দিকে যা তাকে সঙ্গীতের ক্ষেত্রে পরবর্তী বয়সের দিকে ধাবিত করে। গবেষণার ফল সম্পর্কে সম্প্রতি 'পার্সোনালিটি অ্যান্ড সোশ্যাল সাইকোলজি' নামক জার্নালে একটি লেখা প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয় এ দুই পর্যায় 'প্রেফারেন্স ডাইমেনশন' নামে বিবেচিত এবং তা রোম্যান্টিক, আবেগের দিকে ইতিবাচক এবং উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে।

রেন্টফ্রো আরো বলেন, "ভালোবাসা দেওয়া-নেওয়ার এক পর্যায়ে মানুষ এক সময় তার ব্যক্তিস্বাধীনতাকে অতিক্রম করে। তখন সে নিজের 'আমি'-কে খুঁজতে থাকে। তিনি বলেন, "যখন আমরা জীবনের গভীরতার দিকে মনোযোগী হই এবং হাঁটিহাঁটি করে মধ্যবয়সে ঢুকে পড়ি তখন সঙ্গীতের ওপর পছন্দ-অপছন্দের শেষ বয়সে উচ্চমার্গীয় সঙ্গীত এবং লোকসঙ্গীত কিংবা নৈরাশ্যবাদী সঙ্গীত যেমন- নিরহঙ্কারবাদী দ্বারা প্রভাবিত হই।

এ ধরনের ধারা সামাজিক স্টাটাস ও বুদ্ধিবৃত্তির সঙ্গে যুক্ত এবং যেখানে  পরিবার, ভালোবাসা এবং জীবনের নানা হিসাব-নিকাশ  প্রতিধ্বনিত হয়। এই উভয় পর্যায়ই জীবন সম্পর্কে  'ইতিবাচক ও আয়েসি' হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

গবেষকদলের প্রধান ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এরিয়েল বোনেভিল রৌসি বলেন, "বর্তমানে অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যাপক তৎপরতার ফলে আমরা পরিণত বয়সেও সঙ্গীতের বিভিন্ন ধারার স্বাদ নিতে পারি। তিনি বলেন, "এটা উন্মোচন করে আনন্দ বোধ করছি যে গান শোনার বিষয়টি কিভাবে মানুষের ব্যক্তিত্ব, বয়স ও নানা মনস্তাত্ত্বিক বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত।

No comments:

Post a Comment