Wednesday, February 19, 2014

মাশরুম (Mushroom) সম্পর্কে বিস্তারিত

***মাশরুম (Mushroom)***
      **************
        (((Mega Post)))

মাশরুম (ইংরেজি: Mushroom) এক ধরনের ছত্রাক এবং এদের অধিকাংশই ব্যাসিডিওমাইকোটা এবং কিছু অ্যাসকোমাইকোটার অন্তভুক্ত। অন্যান্য উদ্ভিদের ন্যায় মাশরুমের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খাদ্য তৈরীর জন্য সূর্য থেকে আলোর প্রয়োজন পড়ে না। চীন, কোরিয়াসহ বিভিন্ন ইউরোপীয় দেশসমূহে কয়েক ধরনের খাদ্যোপযোগী মাশরুম রান্না করার মাধ্যমে অত্যন্ত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। বাংলাদেশেও আধুনিক খাবার হিসেবে মাশরুমের ব্যাপক বিস্তৃতি ঘটছে। যে-সকল ব্যক্তি মাশরুম সংগ্রহ করে খায়, তারা মাইকোফেজিস্টস বা 'মাশরুম খাদক' হিসেবে পরিচিত হন। মাশরুম খোঁজার প্রক্রিয়াকে সাধারণতঃ মাশরুমিং বা মাশরুম শিকারী নামে অভিহিত করা হয়।
গণপ্রজাতন্ত্রী চীন বিশ্বের সর্ববৃহৎ খাবার উপযোগী মাশরুম উৎপাদনকারী দেশরূপে পরিচিতি পেয়েছে। দেশটি বিশ্বের মোট উৎপাদনের প্রায় অর্ধেক মাশরুম উৎপাদনকারীরূপে স্বীকৃত। প্রতি বছর এক বিলিয়নেরও অধিক জনগোষ্ঠীর জন্য মাথাপিছু ২.৭ কিলোগ্রাম (৬.০ পা) উৎপাদন করে।

প্রকারভেদ
******
এগারিক্স - একাধারে এ জাতীয় মাশরুম খাবার উপযোগী বা ভক্ষণযোগ্য, বিষাক্ত এবং মাদক প্রকৃতির হয়ে থাকে।
বোলেটস/Boletes - এই গ্রুপের আধিকাংশই ভক্ষণযোগ্য এবং অনেকের কাছে সুস্বাদুকর খাদ্যরূপে বিবেচনা হয়ে থাকে। বাংলাদেশ থেকে Borofutus (বড়ফুটুস) নামের একটি গণের/জেনাসের মাশরুম প্রথমবারের মতো ২০১২ সালে আবিস্কৃত হয়েছে এবং এটি Borofutus dhakanus (বড়ফুটুস ঢাকানুস) নামে প্রকাশ হয়েছে।
ব্র্যাকেট ফাঙ্গি
চান্টারেলেস - ভক্ষণযোগ্য।
কোরাল ফাঙ্গি - ভক্ষণযোগ্য।
কাপ ফাঙ্গি - সচরাচর খাবার উপযোগী।
জেলি ফাঙ্গি - সচরাচর খাবার উপযোগী হলেও খেতে তেমন সুস্বাদু নয়।
পলিপোরেস - বোলেটেসের অনুরূপ অর্থাৎ ভক্ষণযোগ্য এবং অনেক লোকের কাছে সুস্বাদুকর খাদ্যরূপে বিবেচিত।
সাইকেডেলিক - এটি শ্রুমস নামেও পরিচিত।
পাফবলস - সচরাচর খাবার উপযোগী।
স্টিঙ্কহর্নস - খাবার উপযোগী হলেও গন্ধ তেমন চমকপ্রদ নয়।
টুথ ফাঙ্গি
বন-জঙ্গল থেকে সঠিক ধরনের মাশরুম সংগ্রহ করা খুবই কঠিন কাজ। কারণ, অধিকাংশ প্রজাতির মাশরুমই একই ধরনের দেখতে। সেজন্যে মাশরুম সংগ্রহকারীকে রাসায়নিক উপাদান সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন থাকতে হয়। খাবার উপযোগী মাশরুম বিভিন্ন সংস্কৃতিতে বিভিন্নভাবে রান্না করে খেতে হয়। এ ধরনের মাশরুম সাধারণতঃ খামারে চাষাবাদ করা হয়। তবে, বিশ্বের অনেক স্থানের সাধারণ জনগণ শৈশবকাল থেকেই ভক্ষণযোগ্য ও সুস্বাদু প্রকৃতির বুনো মাশরুমের সাথে পরিচিত থাকেন।

বৈশিষ্ট্যাবলী
*******
পৃথিবীতে এ পর্যন্ত প্রায় চৌদ্দ হাজার প্রজাতির মাশরুমের কথা জানা যায়। অনেক প্রজাতির মাশরুমই এক রাতের মধ্যেই উৎপাদিত হতে দেখা যায়। অর্থাৎ, খুব দ্রুততার সাথে এর বৃদ্ধি ও প্রসার ঘটতে পারে। তবে অধিকাংশই ধীরে ধীরে বড় হয়। আবাদকৃত মাশরুম আকারে ক্ষুদ্রাকৃতির হয়ে থাকে। খাবার উপযোগী অংশটি অল্প কিছুদিন সতেজ থাকে। বিশ্বের অধিকাংশ মাশরুমেই একটি দণ্ড এবং ছাতার ন্যায় একটি টুপি থাকে। কখনো কখনো ছত্রাকজাতীয় অপুষ্পক উদ্ভিদের টুপির নিম্নাংশে বীজ কিংবা অঙ্কুর থাকে।
আরমিলারিয়া সোলিডিপেস (সাবেক আরমিলারিয়া ওস্টোয়ে) প্রজাতির মাশরুমের আবাসস্থল হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মালহিউর ন্যাশনাল ফরেস্টে দেখা যায় যা প্রায় ২,৪০০ বছরের পুরনো ও প্রাচীনতমরূপে আখ্যায়িত। প্রায় ২,২০০ একর (৮.৯ কিমি) আয়তনে বিস্তৃত হয়ে আছে।

পুষ্টি উপাদান
********
Mushrooms, brown, Italian, or Crimini, raw
Nutritional value per 100 g (3.5 oz)
Energy 30 kcal   110 kJ
Carbohydrates     4.1 g
Fat 0.1 g
Protein 2.5 g
Thiamine (Vit. B1)  0.1 mg   8%
Riboflavin (Vit. B2)  0.5 mg   33%
Niacin (Vit. B3)  3.8 mg   25%
Pantothenic acid (B5)  1.5 mg 30%
Vitamin C  0 mg 0%
Calcium  18 mg 2%
Phosphorus  120 mg 17%
Potassium  448 mg   10%
Sodium  6 mg 0%
Zinc  1.1 mg 11%
Percentages are relative to US
recommendations for adults.
Source: USDA Nutrient database
কাঁচা অথবা রান্নাকৃত মাশরুম স্বল্প-ক্যালরীযুক্ত খাদ্য হিসেবে স্বীকৃত। কাঁচা অবস্থায় এতে ভিটামিন বি খাদ্যপ্রাণ থাকে যাতে রিবোফ্লোবিন, নায়াসিন এবং প্যান্টোথেনিক এসিড থাকে। এছাড়াও, প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান যথা - সেলেনিয়াম, কপার এবং পটাসিয়াম থাকে। চর্বি, শর্করা এবং ক্যালরীযুক্ত উপাদানের মাত্রা কম রয়েছে। তবে, ভিটামিন সি এবং সোডিয়ামজাতীয় উপাদানের অনুপস্থিতি রয়েছে।
অতিবেগুনী রশ্মির প্রতিফলনে মাশরুমে ভিটামিন ডি তৈরী হয়।
নিরামিষভোজী বিশ্বে মাশরুম মাংস হিসেবে পরিচিত। খাবার উপযোগী মাশরুম সাধারণতঃ চীনা, কোরিয়ান, ইউরোপীয়ান এবং জাপানীজ রান্নায় ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়।
সুপারমার্কেটে বাণিজ্যিকভাবে মাশরুম বিক্রয় করা হয়ে থাকে। অধিকাংশ মাশরুমই খামারে উৎপাদন করা হয়। সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রজাতির মাশরুমরূপে আগারিকসা বিসপোরাস পরিচিত। এটি অধিকাংশ লোকের কাছে নিরাপদ মাশরুমরূপে বিবেচ্য। কেননা, এটি নিয়ন্ত্রিত পন্থায়, উপযোগী পরিবেশে জন্মানো হয়। এ. বিসপোরাস প্রজাতির কয়েক ধরনের মাশরুম রয়েছে যা বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত হয়। তন্মধ্যে - হুয়াইটস, ক্রিমিনি এবং পোর্টোবেলো অন্যতম। অন্যান্য চাষযোগ্য প্রজাতির মাশরুম হিসেবে শিটেক, মাইটেক অথবা হেন-অব-দি-উডস, অয়স্টার মাশরুম এবং ইনোকি রয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে আহারের বৈচিত্র্যতা ও ক্রমবর্ধমান খাদ্যের চাহিদা মেটাতে মাশরুম চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বীতা অর্জন করছে।

অন্য ব্যবহার
********
পশমে রংকরণসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক তন্তুতে মাশরুমের ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। মাশরুমের রঙে রাসায়নিক যৌগিক উপাদান রয়েছে যা শক্ত ও উজ্জ্বল রঙ উৎপাদনে সক্ষম। সকল ধরনের রঙের বর্ণালী মাশরুমের রঙে বিদ্যমান। কৃত্রিম রঙ আবিষ্কারের পূর্বে মাশরুম ছিল অনেক টেক্সটাইলে রঙের প্রধান উৎসস্থল।

রোগ প্রতিরোধে মাশরুম
**************
মাশরুম একটি সবজি জাতীয় উদ্ভিদ। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে মাশরুম প্রতিদিনের স্বাভাবিক খাবারে মাশরুম ব্যবহার করা হয়। কিন্তু আমাদের দেশে এখনও তেমন পরিচিতি পায়নি। তবে আশার কথা হলো পুষ্টিগুণে ভরা উপাদেয় মাশরুমকে জনপ্রিয় করার জন্য সরকারিভাবে নানা ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে

উপকারিতা:

মাশরুম শরীরের জমাকৃত কোলেস্টরেল মুক্ত করে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ক্যান্সার, টিউমার, মেদভূড়ি, জন্ডিস, রক্তসল্পতা, ডেঙ্গুজ্বর প্রভৃতি দুরারোগ্য ব্যাধি প্রতিরোধক ও নিরাময় করে।

মাশরুমের সুস্বাদু খাবার:

মাশরুম ফ্রাই, মাশরুম মাংস, মাশরুম মাছ, মাশরুম সবজি, মাশরুম স্যুপ, মাশরুম নুডুল্স, মাশরুম ওমলেট, মাশরুম ভর্তাসহ বিভিন্ন ধরনের ফাস্টফুড মাশরুমের জনপ্রিয় সু-স্বাদু খাবার তৈরি করা যায়।

কিভাবে খেতে হবে:

কাঁচা এবং শুকনা মাশরুম ১৫ বা ২০ মিনিট ফুটানো গরম পানিতে ভিজিয়ে রেখে ভালোভাবে ধুয়ে পানি ফেলে দিয়ে ফ্রাই বা সবজির মতো করে, তরকারি বা মাছ গোশতের মধ্যে দিয়ে বা বিবিধ প্রকারের নাস্তা ও মুখরোচক খাবার তৈরি করে খাওয়া যায়।

বিশুদ্ধ সবজি হিসেবে মাশরুমের ব্যবহার:

আল্লাহপাক মানুষের শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা দিয়েছেন শাকসবজি এবং ফলমূলে। ভিটামিন ও মিনারেলই মানুষের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরিতে সাহায্য করে থাকে। শাকসবজি এবং ফলমূলে ভিটামিন ও মিনারেলের পরিমাণ বেশি। পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে, সুস্থ সবল জীবনযাপনের জন্য একজন মানুষের দৈনিক ২০০-২৫০ গ্রাম সবজি এবং ফল-ফলাদি খেতে হয়। এই পরিমাণমতো খাওয়া আমাদের অনেকের পক্ষে সম্ভবপর হয় না, যে কারণে আমরা অপুষ্টি ও বিভিন্ন রোগে ভুগী।

মাশরুমের ঔষধিগুণ:

পুষ্টিগুনের পাশাপাশি মাশরুমের রয়েছে ঔষধিগুণও। মাশরুমে আমিষ, শর্করা, চর্বি, ভিটামিন ও মিনারেল, এমন সমন্বয় আছে যা শরীরে ‘ইমুন সিস্টেম’কে উন্নত করে। ফলে গর্ভবতী মা ও শিশুরা নিয়মিত মাশরুম খেলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টি হয়। মাশরুমে আমিষ, শর্করা, চর্বি, মিনারেল ও ভিটামিন (সব); চর্বি ও শর্করা (স্বল্প);  ফলিক অ্যাসিড, লৌহ-প্রভৃতি ওষুধি গুণাগুণ ও উপাদান থাকায় এটি মানব শরীরে রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বর্ধনপূর্বক ডায়াবেটিস; ব্লাডপ্রেসার; কিডনি ও এলার্জি; যৌনরোগ ও অক্ষমতা; আলসার, বাতের ব্যথা প্রভৃতি জটিল ও কঠিন দুরারোগ্য ব্যাধি মুক্ত করে নিরাময়কের মহাভূমিকা পালন করে থাকে।

আল-কুরআন ও হাদিসের ভাষায় এটিকে একটি স্বর্গীয় খাবার হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। যে কারণে এটি রোগ নিরাময়ের এক আশ্চর্য নিরাময়ক।

মাশরুমে চর্বি ও শর্করা কম থাকায় এবং আশঁ বেশি থাকায় এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য আদর্শ খাবার।

মাশরুমের আছে শরীরের কোলেস্টেরল কমানোর অন্যতম উপাদান ইরিটাডেনিন, লোভাস্টটিন এবং এনটাডেনিন। তাই নিয়মিত মাশরুম খেলে হৃদরোগ ও উ”চ রক্তচাপ নিরাময় করে।

মাশরুমে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ভিটামিন-ডি, যা শিশুদের দাত ও হাড় গঠনে অত্যন্ত উপকারি। এতে আরও রয়েছে ফলিক এসিড ও লৌহ তাই মাশরুম খেলে রক্ত শূন্যতা দূর হয়। এছাড়া লিংকজাই-৮ পদার্থ থাকায় হেপাটাইটিস-বি ও জন্ডিসের প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে।

মাশরুমে আছে বি-ডি গ্লুকেন, ল্যাম্পাট্রোল, টারপিনওয়েড ও বেনজোপাইরিন, যা ক্যান্সার ও টিউমার প্রতিরোধ করে।

ট্রাইটারপিন থাকাতে এটি বর্তমান বিশ্বে এইডস প্রতিরোধক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

এডিনোসিন থাকায় এটি ডেঙ্গু জ্বরের প্রতিরোধক।

স্ফিঙ্গলিপিড এবং ভিটামিন বি-১২ বেশি থাকায় স্নায়ুতন্ত্র ও স্পাইনাল কর্ড সুস্থ রাখে। মাশরুম খেলে হাইপার টেনশন দূর হয় এবং মেরুদ- দৃঢ় রাখে।

মাশরুমে আছে প্রচুর এনজাইম, যা হজম শক্তি ও রুচি বাড়াতে সাহায্য করে।

মাশরুমে প্রচুর পরিমাণে নিউক্লিক এসিড এবং এন্টি-এলার্জেন থাকায় কিডনি রোগ ও এলার্জি প্রতিরোধক।

সালফার সরবরাহকারী এমাইনো এসিড, এটি নিয়মিত খেলে চুল পড়া ও চুল পাকা প্রতিরোধ করে। বিদেশে মাশরুম ‘ঔষধ, টনিক ও খাদ্য ’ একের ভিতরে তিন হিসেবে পরিচিত।

একটি মাত্র খাদ্য থেকে আমরা এতো উপকার পেতে পারি, তাই মাশরুমকে অবহেলা না করে আসুন প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় মাশরুম রাখার অভ্যাস গড়ে তুলি।

দেহের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস দমনে মাশরুমের জুড়ি নেই। এতে রয়েছে প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল, অ্যামিনো অ্যাসিড, অ্যান্টি বায়োটিক ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট।

নিরামিষভোজিদের জন্য এটা একটা মজাদার খাবার। পাশাপাশি মাশরুম পাসতা, ওমলেট, বিফ রোল, চিকেন স্যান্ডউইচ কিংবা ফিশ ফ্রাইয়ে ব্যবহার করলে স্বাদের সাথে বাড়ে খাবারের পুষ্টিগুণ।

মাশরুমে ভিটামিন বি আছে প্রচুর পরিমাণে। ভিটামিন বি খাদ্যকে গ্লুকোজে রূপান-রিত করে। আর গ্লুকোজ থেকেই তৈরি হয় আমাদের দেহের শক্তি।। ভিটামিন বি খাদ্যবিপাক প্রক্রিয়াকেও সক্রিয় করে।

মাশরুম কোলেস্টোরাল শূন্য। এতে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণও খুবই সামান্য। এতে যে এনজাইম ও ফাইবার আছে তা দেহে উপসি'ত বাকি ব্যাড কোলেস্টোরালের বসতিও উজাড় করে দেয়। মাশরুম একমাত্র সবজি ও দ্বিতীয় খাদ্য উপাদান (প্রথম কডলিভার ওয়েল) যাতে ভিটামিন ডি ভোজ্য আকারে পাওয়া যায়। অন্য কোনো খাদ্য উপাদানে ভোজ্য আকারে ভিটামিন ডি পাওয়া যায় না।

মাশরুমকে চিকিৎসকেরা এক সময় প্রাকৃতিক ইনসুলিন, আবার আরেক সময় প্রাকৃতিক অ্যান্টি বায়োটিক হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। দেহের সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণ ও দেহের বিভিন্ন ধরনের ইনফেকশন দূর করতে ভালো কাজ করে মাশরুম।

মাশরুমে আছে প্রচুর ক্যালসিয়াম, আয়রন, পটাসিয়াম ও সেলেনিয়াম। সেলেনিয়াম উপাদানটি শুধু মাছেই পাওয়া যায়। যারা পুরোপুরি নিরামিষভোজি তারা মাশরুমের মাধ্যমে এই উপকারী উপাদানটি গ্রহণ করতে পারেন।

মাশরুমে আরো আছে এরগোথিওনেইন নামে এক ধরনের শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা মানবদেহের জন্য ঢালের মতো কাজ করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার কার্যকারিতা বাড়ানোর পাশাপাশি অনেক ব্যাকটেরিয়াও দমন করে।
******************
মাশরুম চাষ উৎপাদন প্রযুক্তি
******************
মাশরুম একটি পুষ্টিকর সবজি। সাধারণত সবজির মতো মাশরুম মাটিতে জন্মায় না। এটি নিম্নশ্রেণীর ছত্রাক জাতীয় পরজীবী উদ্ভিদ। জীবন ধারনের জন্য এরা জৈবিক বস' (Organic mattor) থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণ করে। আশির দশকের শুরুতে এদেশে পরীক্ষামূলকভাবে মাশরুম চাষ শুরু হয়। সে সময় সাভারে অবসি'ত কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর আওতাধীন ২টি কালচার সেন্টারে একটি মাশরুম স্পন উৎপাদন স্থাপিত হয়। উক্ত কেন্দ্রের উদ্যোগে আশে পাশের চাষীদের স্পর্ন সরবরাহ ও মাশরুম উৎপাদনে কারিগরী সহায়তা প্রধানের মাধ্যমে মাশরুমের চাষ শুরু হয়। বর্তমানে সাভারে মাশরুম সেন্টার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মাশরুম উৎপাদন কার্যক্রম আরো বিস্তারিত কাজ রয়েছে। মাশরুম পুষ্টিকর এবং ওষুধিগুণসম্পন্ন একটি উৎকৃষ্ট সবজি। বাংলাদেশের আবহাওয়া ও জলবায়ু মাশরুম চাষের জন্য উপযোগী। মাশরুম চাষের উপকরণ খড়, কাঠের গুঁড়া, আখের ছোবড়া অত্যন্ত- সস্তা ও সহজে পাওয়া যায়। এ সবজিটি ঘরের মধ্যে চাষ করা যায় এবং মাত্র ৭-১০ দিনের মধ্যেই মাশরুম পাওয়া যায় যা অন্য ফসলে পাওয়া যায় না। চাষাবাদে কোন খরচ নেই বললেই হয়। জমির প্রয়োজন হয় না। মাশরুম চাষা করতে বীজ, ধানের খড়, পাতলা পলিথিন ব্যাগ, ঝুলন- শিকা বা বাঁশ, ছিদ্রযুক্ত কালো পলিথিন সিট, ঘরের উষ্ণতা ও আদ্রর্তা পরিমাপের জন্য হাইগ্রোমিটার, ঘরের উষ্ণতা ও আদ্রর্তা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য হ্যান্ড সপ্রেয়ার, জীবাণুনাশক, ব্লেড বা ছোট ছুরি, বালতি, আনুসাঙ্গিক অন্যান্য উপকরণ। এই আর্টিকেলটি থেকে আপনি আরো যেসব তথ্য পাবেন সেগুলো হল: মাশরুম উৎপাদন পদ্ধতি, মাশরুম পরিচিতি, মাশরুম চাষ পদ্ধতি, মাশরুম বিপণন পদ্ধতি, মাশরুম চাষ ও প্রশিক্ষণ স্থান, সম্ভাবনা, মাশরুমের পুষ্টিগুন, মাশরুম চাষ ও এ সংক্রান্ত বিষয়ে যাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন এবং অন্যান্য সব তথ্য।

পুষ্টিমাণ :
খাদ্য হিসেবে মাশরুম অতুলনীয়। প্রাচীনকাল থেকেই এটি পুষ্টিসমৃদ্ধ, সুস্বাদু ও দামী খাবার হিসেবে বিবেচিত।
মাশরুম প্রোটিন সমৃদ্ধ সবজি। তাই একে সবজি মাংসও বলা হয়ে থাকে। ১০০ গ্রাম শুকনো মাশরুমে ২৫-৩৫ গ্রাম প্রোটিন রয়েছে। পক্ষান্তরে আমরা যা অতি নামী-দামি খাবার হিসেবে মাছ, গোশত, ডিম খেয়ে থাকি তার মধ্যে ১০০ গ্রাম মাছ, গোশত ও ডিমে প্রোটিনের পরিমাণ হলো ১৬-২২ গ্রাম, ২২-২৫ গ্রাম ও ১৩ গ্রাম মাত্র। মাশরুম ভিটামিন সি, বি কমপ্লেক্স, পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ফসফরাস ও কমমাত্রায় ক্যালসিয়াম ও লৌহ রয়েছে। লৌহ কম থাকাতেও সহজলভ্য অবস্থায় থাকে বলে রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বজায় রাখতে মাশরুম সহায়তা করে।মাশরুম খুব নিম্নশক্তি সম্পন্ন খাবার (Low calorie)। এতে কোলেষ্টরল নেই, চর্বির পরিমাণ অত্যনত্ম কম (২-৮%) কিন' শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ফ্যাটি এসিড লিনোলোয়িক এসিড রয়েছে।
মাশরুমের পরিমিত পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট ও যথেষ্ট আঁশ (৮-১০%) থাকে। এতে স্টার্চ নেই। শর্করার পরিমাণ কম বিধায়  বহুমূত্র রোগীদের জন্য মাশরুম আদর্শ খাবার।কম চর্বি, কোলোস্টেরকমুক্ত এবং লিনোলেয়িক এসিড সমুদ্ধ হওয়ায় মাশরুম হৃদরোগীদের জন্যও খুব উপকারী।

মাশরুমে ভিটামিন ও মিনারেল:
মানবদেহের রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা সৃষ্টি করাই ভিটামিন ও মিনারেলের প্রধান কাজ। শরীরের চাহিদামতো প্রতিদিন ভিটামিন ও মিনারেল খেতে না পারলে শরীরের রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা ক্রমশ দুর্বল হয়ে নানারূপ জটিল রোগে আক্রান্ত হতে হয়। প্রাকৃতিকভাবে মাশরুমেই সবচেয়ে বেশি ভিটামিন ও মিনারেল বিদ্যমান। ১০০ গ্রাম শুকনো মাশরুমে ৫৭-৬০ শতাংশ ভিটামিন ও মিনারেল (অত্যাবশ্যকীয় ট্রেস ইলেমেন্টসহ) রয়েছে। ১০০ গ্রাম শুকনা মাশরুমে থায়ামিন (বি-১), রিবোফাভিন (বি-২), নায়াসিন, ফসফরাস, লৌহ, ক্যালসিয়াম ও কপার-৪.৮-৮.৯ মি: গ্রা:, ৩.৭-৪.৭ মি: গ্রা:, ৪২-১০৮ মি: গ্রা:, ৭০৮-১৩৪৮ মি: গ্রা:, ১৫-১৭ মি: গ্রা:, ৩৩-১৯৯ মি: গ্রা: ও ১২-২২ মি: গ্রা: ভিটামিন ও মিনারেল রয়েছে।

মাশরুমের ঔষধিগুণ ও নানাবিধি ব্যবহার :
বিভিন্ন রোগব্যধিতে মাশরুমের ব্যবহার সুবিদিত। বাত, ব্যথা, জন্ডিস, কৃমি, রক্ত বন্ধ হওয়ার কাজে মাশরুম ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
মাশরুম রক্তচাপ কমায় এবং টিউমার কোষের বিরুদ্ধে কাজ করে।
নিয়মিত মাশরুম থেকে শারিরীক ও মানসিক শক্তি বৃদ্ধি হয়। রক্ত সঞ্চালণ বৃদ্ধি পায় এবং সর্দি, কাশি দূর হয়।
মাশরুম উচ্চ রক্তচাপ ও বহুমুত্র রোগীদের জন্য উপকারী।
মাশরুমে যথেষ্ট আঁশ (ঋরনড়প) থাকার শরীর স্লীম রাখতে সহায়তা করে।
মাশরুম কৌষ্ঠ  কাঠিন্য দূর করে। মাশরুম প্রোটিনের হজম ক্ষমতা (Digestability) শতকরা ৭০-৮০ ভাগ হওয়ায় রোগীদের জন্য সহজপাক এবং অত্যনত্ম গুরুত্বপূর্ণ খাবার।
রং বোতলের কর্ক. ছবির ফ্রেম, ফুলদানী হিসেবেও মাশরুম ব্যবহার করা হয়।

মাশরুমের জাত:
প্রকৃতিতে মাশরুমের কয়েক হাজার জাত রয়েছে যার মধ্যে ৮-১০টি জাতের বাণিজ্যিক চাষাবাদ হয়ে থাকে। বাংলাদেশের তাপমাত্রা ও আপেক্ষিক আদ্রতা মাশরুম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। বাংলাদেশের চাষপযোগী মাশরুমের জাতগুলো হলো-

ক্রমিক নং    সাধারণ নাম    ইংরেজী নাম    বৈজ্ঞানিক নাম  
১    ঝিনুক মাশরুম    Oyster mushroom    Pleurisies Sapp  
২    দুধ মাশরুম    Milky mushroom      Calocybe indica  
৩    কান মাশরুম    Wood ear mushroom    Auricularia polytricha  
৪    বোতাম মাশরুম    Button mushroom    Agaricus bisporus  
৫    তাপ সহনশীল বোতাম মাশরুম  Heat tolerate button mushroom Agaricus bitorquis
৬    শিতাকে মাশরুম    Shitake mushroom    Lantinula edodes  
৭    খড় মাশরুম    Paddy straw mushroom  Volveriella volvacea  

চাষ পদ্ধতি
*******
মাশরুম চাষ পদ্ধতি: মাশরুম চাষ করতে গেলে সর্বপ্রথম সঠিক কর্মপরিকল্পনা করা প্রয়োজন। সঠিকভাবে কাজ পরিচালনা করার জন্য হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নেওয়া জরুরি। কিছু লোক একত্রে মিলেমিশে মাশরুম চাষ করলে দ্রুত লাভবান হওয়া সম্ভব। ঘরে বসে ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা মূলধন নিয়ে প্রাথমিকভাবে কাজ শুরু করা যায়। গ্রাম বা শহরের বেকার যুবকরা এই মাশরুম চাষ করে নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারেন। পুরুষের পাশাপাশি মহিলারাও ঘরে বসে অল্প মূলধনে মাশরুম চাষ শুরু করতে পারেন। মাশরুম চাষ করার জন্য আলোহীন স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ প্রয়োজন, তবে খেয়াল রাখতে হবে ঘরে যাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে অক্সিজেন পৌঁছাতে পারে, শহর ও গ্রামে সব জায়গায় মাশরুম চাষ করা সম্ভব। স্পূনগুলোকে রাখার জন্য ছোট ছোট মাচা ব্যবহার করা যেতে পারে। এগুলো হতে পারে লোহা, বাঁশ কিংবা কাঠের। অতিরিক্ত গরম মাশরুম চাষের জন্য প্রতিকূল; এজন্য প্রয়োজন হলে ফ্যান ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি মাশরুম চাষের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি প্রয়োজন। হ্যান্ড স্প্রে মেশিনের সাহায্যে স্পূনগুলোতে নিয়মিত পানি দিয়ে স্যাঁতসেঁতে করে রাখতে হবে। এভাবে আসা যাক উৎপাদন সম্পর্কে সাধারণত ভালো মানের স্পূন থেকে গ্রীষ্মকালে প্রতি আড়াই মাসে ৯০ থেকে ১০০ গ্রাম মাশরুম পাওয়া সম্ভব। শীত ও বর্ষাকালে মাশরুম উৎপাদন অধিক পরিমাণে হয়ে থাকে এ সময় একটি ভালো মানের স্পূন থেকে প্রতি আড়াই মাসে ২০০-২৫০ গ্রাম মাশরুম উৎপাদন করা যায়। ১০-১২ টাকা মূল্যের এই স্পূনগুলো প্রতি আড়াই মাস পর পর পরিবর্তন করতে হয়। বাংলাদেশের অনেক এলাকায়ই বর্তমানে মাশরুম চাষ করা হয়। এগুলোর মধ্যে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, রাজবাড়ী, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, রাজশাহীসহ সারাদেশেই বর্তমানে মাশরুম চাষ করা হচ্ছে। ঢাকা শহরে বিভিন্ন এলাকায় যেমন গোড়ান, কোর্ট কাচারি এলাকা, রামপুরা, বনশ্রী, সাভার, টঙ্গীতে অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে মাশরুম চাষ করছে।

ঝিনুক মাশরুম চাষ:
বাংলাদেশে বর্তমানে বানিজ্যিকভাবে ঝিনুক মাশরুমের চাষই বেশি প্রচলিত। চাষীদের জন্য স্পন ভর্তি সাবষ্ট্রেট সহ উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত পিপি ব্যাগ সরবরাহ করা হয়। সরবরাহকৃত এসব ব্যাগ থেকে চাষীরা ফসল উৎপাদন করে থাকেন। মোটামুটি ৫০০ গ্রাম ওজনের এসব ব্যাগের ভিতরে উৎপাদন হচ্ছে-
১.    কাঠের গুড়া = ৬৪%
২.    গমের ভূষি = ৩২%
৩.    ধানের তুষ =৪%
উক্ত মিশ্রণের সাথে সামান্য পরিমাণ চুন এবং পানি মিশানো হয়। প্যাকেটগুলো খড়ের চাষাবিশিষ্ট বাঁশের বেড়া ও পাকা মেঝের ঘরে কাঠ ও বাঁশের তাকে সারি করে সাজিয়ে রাখতে হবে।
অত:পর ব্যাগের দুপাশে অধর্চন্দ্রাকৃত্রির করে কেটে কাটা অংশটির খানিকটা চেছে ফেলে দিতে হবে।
চাছার পর ব্যাগটি পরিষ্কার পানিতে ২১-৩০ মিনিট ডুবিয়ে রাখতে হবে।
ব্যাগটি অত:পর পরিষ্কার ফ্লোর বা তারের জালির ওপর আধাঘন্টা সময় উল্টে রাখতে হবে যাতে ভেতরের বাড়তি পানি ঝড়ে যায়।
এবার চাষঘরে কাঠের ব্যাক বা বাঁশের মাচায় পরিমিত বিছিয়ে ব্যাগগুলো তার ওপর সারিবদ্ধভাবে রাখতে হবে।
বাইরের তাপমাত্রা কম থাকলে ব্যাগের উপর পলিথিন ঢেকে দিয়ে ২/৩ দিন রাখতে হবে যাতে ব্যাগের ভেতরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। এ সময় ঘরের আর্দ্রতা ৮০% এবং তাপমাত্রা ২৫-৩০০ সে. হওয়া দরকার। ধারনা দিয়ে-
ব্যাগগুলোতে নিয়মিত পানি সেপ্র করতে হবে।
পলিথিন ডাকা থাকলে ৩/৪ বার ১০-১৫ মি. সময় ডাকনা সরিয়ে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করে দিতে হবে।
২/৩ দিন পর ব্যাগের কাটা অংশ দিয়ে সাদা পিন সদৃশ অংশ দেখা যায়। আরো ২/৩ দিন পর মাশরুম বড় হলে সংগ্রহ করতে হবে।
অন্য দুপাশ থেকে অত:পর একইভাবে চেছে দিয়ে পানি স্প্রে করলে নতুনভাবে মাশরুম উৎপাদন হবে।
একটি মাশরুমের ব্যাগ থেকে ৩/৪ বার ফসল তোলা যায়।
পোকা-মাকড় ও রোগবালাই দমন
মাশরুমে মাছির প্রকোপ দেখা দিতে পারে। এজন্য ম্যালাথিয়ন (০.১%) স্প্রে করা যেতে পারে। এছাড়া ফর্মালিডিহাইডে (৪%) তুলা ভিজিয়ে সানস্ট্রেটে ঘসে দিলে সবুজ বাদামী বা নীল মোল্ড দূর হবে।

মাশরুম বিপণন পদ্ধতি:
________________
মাশরুম চাষের পাশাপাশি মাশরুম বিপণন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিকভাবে বিপণন করতে না পারলে মাশরুম থেকে অধিক পরিমাণ লাভ করা সম্ভব নয়। এজন্য চাষের পাশাপাশি বিপণন বা মার্কেটিং পদ্ধতিটিও ভালোভাবে জানা প্রয়োজন। মাশরুম কোথায় কোথায় বিক্রি করা যায়। কোথায় বিক্রি করলে লাভ বেশি এগুলো জানা প্রয়োজন। সাধারণত বিভিন্ন হোটেলে মাশরুম বিক্রি করা যায়। এছাড়া বড় বড় ডিপার্টমেন্টাল স্টোর যেমন_ আগোরা, নন্দন, মিনা বাজার ইত্যাদি জায়গায় ভালো ও অধিক পরিমাণে মাশরুম সরবরাহ করতে পারলে বিক্রির সুযোগ আছে। খোলাবাজারে নিজ উদ্যোগেও মাশরুম বিক্রি করা সম্ভব। সাধারণত বাজারে প্রতিকেজি মাশরুম ১৫০-২০০ টাকা দরে বিক্রি হয়ে থাকে। যদি কোনো কারণে কখনো মাশরুম বিক্রি করা না যায়, সেক্ষেত্রে মাশরুম শুকিয়ে রাখা সম্ভব। এটাকে ড্রাই মাশরুম বলে। বাজারে ড্রাই মাশরুমের দাম কেজিপ্রতি ১,০০০-১,২০০ টাকা। ড্রাই মাশরুম পানিতে ভিজালে আবার কাঁচা মাশরুমের মতো হয়ে যায়। বিক্রির অসুবিধা হলে মাশরুম সংরক্ষণ করা সম্ভব বলেই এটা একটি লাভজনক ব্যবসা। কোনো সুখ্যাত প্রতিষ্ঠানে মাশরুম সরবরাহ করতে হলে দুটি বিষয় ভালো করে মনে রাখতে হবে। একটি দ্রব্যের মান ও অপরটি দ্রব্যের উৎপাদনের পরিমাণ। যখন ভালো মানের মাশরুমের চাহিদা তৈরি হবে তখন প্রত্যেক প্রতিষ্ঠান তা অধিক পরিমাণে আশা করবে। একজন ক্ষুদ্র মাশরুম চাষির পক্ষে যা পূরণ করা কষ্টকর। এ জন্যই কিছুসংখ্যক লোক মিলেমিশে চাষাবাদ করতে পারলে অধিক পরিমাণ মাশরুম সরবরাহ করা সম্ভব।

মাশরুম চাষ ও প্রশিক্ষণ স্থান: মাশরুম চাষ ও প্রশিক্ষণের জন্য সরকারিভাবে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সাভারে কৃষি সম্প্র্রসারণ অধিদপ্তর 'মাশরুম চাষ সেন্টার' নামে একটি প্রকল্প চালু করেছে। এখানে প্রশিক্ষণের জন্য প্রশিক্ষণার্থীকে আগে থেকে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। এই প্রশিক্ষণ প্রকল্পের মেয়াদ তিন দিন পর্যন্ত। এখানে প্রশিক্ষণার্থীদের সরকারিভাবে সার্টিফিকেট প্রদানের মাধ্যমে কিভাবে মাশরুম চাষ করা যায়, কিভাবে বিপণন করা যায়, মাশরুম চাষের সমস্যা সুবিধা ইত্যাদি বিষয়ে হাতে-কলমে শিক্ষা প্রদান করে থাকে। সরকারিভাবে এই প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা অধিক সময় না হওয়ায় বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, এনজিও মাশরুম চাষের ওপর হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। এগুলোর মধ্যে ঢাকার মৌচাকে মুকুল টাওয়ারে 'হিউম্যান ওয়েলফেয়ার এন্ড ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি, সাভার বাসস্ট্যান্ডে পুরাতন কাস্টমস অফিসের পাশে 'শেফা মাশরুম' ইত্যাদি অন্যতম। মাশরুমের চাষ সম্পর্কে বলতে গিয়ে 'হিরার' চেয়ারম্যান ব্রজেন বিশ্বাস বলেন, মাশরুম অত্যন্ত সুস্বাদু ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার। এর চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে; কিন্তু সরকারিভাবে সবসময় প্রশিক্ষণ না হওয়ায় 'হিরা' নিজস্ব উদ্যোগে মাশরুম চাষ ও গবেষণা শুরু করেছে। বর্তমানে 'হিরা' থেকে মাশরুম চাষের ওপর প্রশিক্ষণও চালু হয়েছে। এ ব্যাপারে 'হিরার' চেয়ারম্যান ব্রজেন বিশ্বাস আরো বলেন, ২০০৬ সাল থেকে তারা মাশরুম চাষের ওপর প্রশিক্ষণ দেয়া শুরু করেন। প্রতিবছর এখান থেকে ২০০-২৫০ লোক, মাশরুম চাষের ওপর প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকেন। বছরের যেকোনো সময়ই এখানে মাশরুম চাষের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেন। প্রতি ব্যাচে ৫-২০ জন প্রশিক্ষণার্থী নিয়ে প্রশিক্ষণ শুরু হয়। চারদিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে প্রশিক্ষণার্থীকে জনপ্রতি ১ হাজার ৫০ টাকা করে প্রদান করতে হয়।

সম্ভাবনা: মাশরুম চাষ আমাদের দেশের জন্য একটি সম্ভাবনাময় দিক। সরকার সঠিকভাবে মাশরুম চাষের দিকে নজর দিলে মাশরুম চাষ একটি অন্যতম সাফল্যমণ্ডিত ক্ষেত্রে পরিণত হবে। এখান থেকে হাজার হাজার বেকার নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো মাশরুম চাষের দিকে নজর দিলে সম্ভাবনাময় মাশরুম চাষ আরো অনেক দূর এগিয়ে যাবে এটাই সবার প্রত্যাশা এবং এই প্রত্যাশার প্রাপ্তি যেন ঘটে।
লেখক: বকুল হাসান খান
এগ্রোবাংলা ডটকম
মাশরুম চাষ ও এ সংক্রান্ত বিষয়ে যাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন
মাশরুম চাষ প্রশিক্ষন, বীজ ও লোনসহ ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য
গ্রীন বাংলা মাশরুম কর্নার
মাশরুম লাভলু
বি-১৯, বিটিআরসি মার্কেট, বগুড়া
মোবাইল: ০১৭১৬-৮৮৪৩৬৮

বীজ, তাজা, শুকনা ও পাউডার মাশরুম পাইকারী ক্রয়-বিক্রয় এবং প্রশিক্ষন
খাদেম মাশরুম সেন্টার
শফিউল আজম খান
মোবাইল: ০১৯১৬-৮২০৪৫৮, ০১৭১৫-৪৭৫০১২
৫৮১/সি, খিলগাঁও, ঢাকা-১২২৯

মাশরুম উৎপাদন এবং ক্রয়-বিক্রয় কেন্দ্র
সৈকত মাশরুম প্রকল্প
মো: সোহরাব আলী
মোবাইল: ০১৭১৬-৪০৮৮৮০
১০৪/১ কাতলাপুর, সাভার, ঢাকা

মাশরুম স্পন ও পাইকারী ক্রয়-বিক্রয় কেন্দ্র
এম. আর. টি মাশরুম প্রজেক্ট
রতন ইসলাম
মোবাইল: ০১৭১৫-৮৭৩৭৮০
মডেল কলেজ রোড, ডগড়মোড়া, সাভার, ঢাকা

তাজা, শুকনা এবং মাশরুম স্পন (বীজ) বিক্রয় কেন্দ্র
সুখী মাশরুম
আবদুল হালিম
মোবাইল: ০১৯১২-৪১১৭৫৫
১৯/৯, আই ব্লক, ব্যাংক কলোনী, সাভার, ঢাকা

মাশরুম বীজ, মাশরুমের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম (অটোক্লেভ মেশিন, পিপি, নেক, তুলা, রাবার) বিক্রয় কেন্দ্র
উদ্যম মাশরুম কর্নার
মো: সাইফুল ইসলাম (জামান)
মোবাইল: ০১৮১৬-৪৩০২৬৬, ০১৭১৬-৫০৩৮৩০, ০১১৯৯-১৬১২৯১
বি-১১১, সোবাহানবাগ, সাভার, ঢাকা
এ ব্যাপারে আরো বিস্তারিত জানতে হলে ফোন করা যেতে পারে। মোবাইল নং-০১৭১০৪০৭০৭৪, ০১১৯৯৪২৫৫২৩, ০১৯১১৪০৫৩৬৬
এগ্রোবাংলা ডটকম
http://www.agrobangla.com/potential-cultivation/86-2012-12-27-11-02-44.html#sthash.aZta0cRV.dpuf

তথ্য সূত্র: জাতীয় মাশরুম উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ কেন্দ্র, সাভার।কৃষি তথ্য সার্ভিস। জাতীয় ই-তথ্যকোষ। উইকিপিডিয়া

1 comment:

  1. Top Casino Games | Dr.CMD
    Explore 통영 출장마사지 our top five list of the best casino 서울특별 출장안마 games - 남원 출장안마 blackjack, poker, slots, video poker and 동해 출장마사지 more! This list is compiled as a list of all 화성 출장안마 casino games

    ReplyDelete